...|...|...

জাতীয়

মরিয়মের জন্য ন্যায়বিচার চাইলেন গাজী নজরুলের সেই ড্রাইভার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৪
Shares
মরিয়মের জন্য ন্যায়বিচার চাইলেন গাজী নজরুলের সেই ড্রাইভার

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তার মামা ওবায়দুর রহমান। তিনি মরিয়মের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে মনে করছেন।

ওবায়দুর রহমান একসময় গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। মরিয়মের লাশ উদ্ধারের পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মরিয়ম আমার মেয়ের মতো। ওর লেখাপড়ার সব খরচ আমি দিতাম। এই নজরুলের জন্য আমার সেই মেয়ের এমন অবস্থা হলো। এটা আমি কীভাবে সহ্য করব।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ওই রাতে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরিয়মের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের সমর্থকদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পরই মরিয়মের এমন পরিণতি হয়েছে।

তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়মের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন কি না কিংবা পারিবারিক কোনো বিরোধ চলছিল কি না- এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে পারেননি ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর আমি ওদের সাথে আর যোগাযোগই রাখিনি। এতটুকু বলতে পারি, বিয়েটা হয়েছিল জোর করে। গাজী নজরুল যে অনৈতিক কাজ করেছে, এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। চলতি বছর তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক তরুণীর সাথে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠিও দেয় দলটি।

এদিকে মরিয়মের লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মরিয়মের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না কিংবা এর পেছনে কোনো প্ররোচনা ছিল কি না—এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।