আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করলে দেশে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)
সকালে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান
জানান। কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় পতাকা ও দুদক পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ৯টায় দুদক
প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান
বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে
ভোটারদের সচেতন হতে হবে। দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করা গেলে দেশে দুর্নীতির
মাত্রা অনেকটাই কমবে। তিনি আরও বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি এমনভাবে ছড়িয়ে
রয়েছে যে, একেবারে নির্মূল করা কঠিন। তবে এ পরিস্থিতিতে তরুণদের এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার
ওপর জোর দেন তিনি।
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন,
দুর্নীতিবাজদের উৎসব যেন প্রতিদিন। কিন্তু দুর্নীতি
বিরোধীদের মাত্র একদিনের উদ্যোগে তাদের লাগাম টানা সম্ভব নয়। তাই ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন
তিনি।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ২০০৩
সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ইউনাইটেড ন্যাশনস
কনভেনশন অ্যাগেইনেস্ট করাপশন (আনকাক) এ স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের
১৯১টি দেশ একযোগে দিনটি পালন করে থাকে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা: গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী
ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯৫টি উপজেলায় বড় পরিসরে বিভিন্ন কর্মসূচির
আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সব সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ,
সরকারি-আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং পিকেএসএফসহ বিভিন্ন এনজিওতেও দুর্নীতিবিরোধী
নানা আয়োজন চলছে।
দুদকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক
দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও বিভিন্ন
কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ আনকাকের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে দুদক ২০০৭ সাল থেকে
দিবসটি পালন শুরু করে। তবে সরকারিভাবে ২০১৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস
উদযাপন করা হচ্ছে।

