...|...|...

লাইফস্টাইল

ব্ল্যাকহেড কেন হয়, দূর করবেন যেভাবে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:২১
Shares
ব্ল্যাকহেড কেন হয়, দূর করবেন যেভাবে

ব্ল্যাকহেডস। ছবি: সংগৃহীত

মুখে ছোট ছোট কালো বিন্দুর মতো দেখা দেয় ব্ল্যাকহেড। অনেকেই আঙুল দিয়ে চেপে বা নানা টুল দিয়ে এগুলো তুলে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়িতে এভাবে চেপে বের করা কতটা নিরাপদ, আর বারবার ব্ল্যাকহেড হওয়া ঠেকাতে কী করণীয়- চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ব্ল্যাকহেড কেন হয়

ব্ল্যাকহেড আসলে এক ধরনের ব্রণ, যা মুখ, ঘাড়, পিঠ ও বুকের ত্বকে দেখা দেয়। ত্বকের অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ ও অন্যান্য উপাদান রোমকূপে জমে তা বন্ধ করে দিলে এটি তৈরি হয়। পরে বাতাসের সংস্পর্শে এসে রোমকূপের ভেতরের জমে থাকা উপাদান কালচে রূপ নেয়।

ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদনই ব্ল্যাকহেডের প্রধান কারণ। রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে এমন প্রসাধনী বা স্কিন কেয়ার পণ্য- যেমন শিয়া বাটার, নারকেল তেল বা অ্যাভোকাডো তেলযুক্ত পণ্য- সমস্যা বাড়াতে পারে। একসাথে অনেক বেশি পণ্য ব্যবহার করলেও কারও কারও ক্ষেত্রে ব্ল্যাকহেডের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে।

যেকোনো বয়সেই ব্ল্যাকহেড হতে পারে, তবে বয়ঃসন্ধি বা গর্ভাবস্থার মতো হরমোনের ওঠানামার সময় এর সম্ভাবনা বাড়ে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতাজনিত কিছু শারীরিক অবস্থাতেও এটি বেশি দেখা যায়।

বাড়িতে চেপে বের করা কি নিরাপদ?

দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অনেকে ব্ল্যাকহেড নিজেই তুলে ফেলতে চান, তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এটি করতে নিষেধ করেন। নিজে চেপে বা খুঁচিয়ে তোলার ফলে ত্বকে সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা থেকে প্রদাহ, সংক্রমণ বা দাগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজন হলে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমেই এটি করানো নিরাপদ।

ছবি: সংগৃহীত

পোর স্ট্রিপ কি কার্যকর?

ত্বকে লাগিয়ে টেনে তোলার এই স্ট্রিপ বেশ জনপ্রিয় হলেও বিশেষজ্ঞরা একে খুব কার্যকর মনে করেন না। এটি সাধারণত ব্ল্যাকহেডের শুধু উপরিভাগ তুলে ফেলে, রোমকূপের ভেতরের জমে থাকা উপাদান রয়ে যায়। এছাড়া ব্যবহারে ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তিও হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরোধের উপায়

ব্ল্যাকহেড তুলে ফেললেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না- কিছুদিন পর তা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখাই বেশি কার্যকর।

নিয়মিত স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহারে অতিরিক্ত তেল কমতে পারে। এর পাশাপাশি টপিক্যাল রেটিনয়েড ত্বকের মৃত কোষ দ্রুত ঝরাতে সহায়তা করে, ফলে রোমকূপে মৃত কোষ জমার আশঙ্কা কমে।

ট্রেটিনয়িনের মতো বেশিরভাগ রেটিনয়েড ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শ লাগলেও, অ্যাডাপালিন নামের রেটিনয়েড প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায় এবং এটিও কার্যকর হতে পারে। বাজারে থাকা রেটিনলযুক্ত পণ্যও বিদ্যমান ব্ল্যাকহেড কমাতে ও নতুন করে তৈরি হওয়া ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে, যদিও এর কার্যকারিতা প্রেসক্রিপশন রেটিনয়েডের তুলনায় কম এবং পণ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

নিয়মিত ব্ল্যাকহেড হলে এবং সাধারণ পণ্যে উপকার না পেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে তারা লেজার থেরাপি বা কেমিক্যাল পিলের পরামর্শ দিতে পারেন- লেজার থেরাপি অতিরিক্ত তেল উৎপাদন কমাতে সহায়তা করে, আর কেমিক্যাল পিল মৃত কোষ দূর করার পাশাপাশি রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিন গড়ে তোলা। ব্ল্যাকহেড বারবার চেপে তোলার চেয়ে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ নিয়ন্ত্রণে রাখাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কাজে দেয়।

তথ্যসূত্র:

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস