...|...|...

লাইফস্টাইল

অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে যেসব প্রশ্ন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:০০
Shares
অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে যেসব প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে নিয়ে পরিবার, বন্ধু কিংবা পরিচিতদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অনেক অবিবাহিত মানুষকে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ‘বিয়ে করছেন না কেন’ কিংবা ‘কবে বিয়ে করবেন’-এ ধরনের প্রশ্ন যেন হয়ে ওঠে নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রশ্নগুলো অনেক সময় নিছক কৌতূহল বা হাসি-ঠাট্টা থেকে করা হলেও, তা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই অবিবাহিত বন্ধু বা পরিচিতদের সাথে কথা বলার সময় যেসব প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত।

তোমার বিয়ের বয়স কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে

জীবনের প্রতিটি মানুষের চলার গতি ও অগ্রাধিকার আলাদা। কেউ ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে সময় নেন, কেউ মানসিক প্রস্তুতির অপেক্ষায় থাকেন, আবার কেউ হয়তো নিজের পছন্দমতো সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না। বয়স দিয়ে বিয়ের যোগ্যতা বিচার করা কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

‘আর কত বাছবিচার করবে

পছন্দের মানুষ খুঁজে নেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে স্বভাব বা মাত্রাতিরিক্ত বাছবিচার বলে আখ্যা দেন। অথচ সারা জীবন একসাথে কাটানোর জন্য একজন সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। এমন মন্তব্যে মনে হতে পারে যে তিনি ভুল করছেন, যা আদতে তার আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করে।

বিয়ে না করলে কিন্তু একা একা বিষণ্ণ হয়ে পড়বে

বিয়ে না করলেই একা থাকতে হবে কিংবা সংসার করলেই জীবনে কোনো একাকীত্ব থাকবে না-এমন ধারণা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। বহু মানুষ একা থেকেও পরিপূর্ণ, সুখী ও সামাজিক জীবনযাপন করছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন নেতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়ার চেয়ে বন্ধুর বর্তমানকে সমর্থন করাই উত্তম।

বিয়ে করো, জীবন অনেকটাই হালকা লাগবে

সংসার জীবনের যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি নানা চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বও থাকে। অপরিপক্ব অবস্থায় বা অপ্রস্তুতভাবে সংসারে প্রবেশ করলে জীবন আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে। তাই বিয়ের ইতিবাচক দিকগুলোর সঙ্গে নেতিবাচক বাস্তবতা এড়িয়ে গিয়ে উপদেশ দেওয়া উচিত নয়।

তোমার কি কোনো সমস্যা আছে

একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে না করলে সমাজে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় গুঞ্জন ও অনুমান শুরু হয়। বন্ধুদের পক্ষ থেকেও এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হলে বন্ধুত্বে দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তোমার দিন তো ভালোই কাটছে, কোনো দায়িত্ব নেই

অবিবাহিত মানেই যে তার জীবনে দায়িত্ব বা মানসিক চাপ নেই, এমন ভাবা সম্পূর্ণ ভুল। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবারই নিজস্ব যুদ্ধ থাকে। তাদের সেই লড়াইকে হালকা করে দেখা সংবেদনশীলতার পরিপন্থী।

বিয়ে প্রতিটি মানুষের অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত। সেখানে জোর বা অযাচিত কৌতূহলের কোনো স্থান নেই। ভালো বন্ধুর পরিচয় আড্ডায় খোঁচা দেওয়া কথায় নয়, বরং বন্ধুর প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা ও মানসিক সমর্থন জানানোর মাঝেই ফুটে ওঠে।