ব্রিকসের ১১ সদস্যের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এবারের সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে বিমানবন্দরে নামতে দেখা যায়। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং তাকে স্বাগত জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংও দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শি চিনপিংয়ের এবারের ভারত সফরও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো তিনি ভারত সফরে আসছেন। এর আগে হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, ভিসা ব্যবস্থা ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও সীমান্ত বিরোধ এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ব্রিকস। পরে জোটটিতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়। বর্তমানে জোটটির সদস্য সংখ্যা বাড়লেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর ঐক্যের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



