...|...|...

বিশেষ প্রতিবেদন

ব্যাংকগুলোকে সর্বজনীন পেনশনে আনতে উদ্যোগ

এনায়েত শাওন
প্রকাশ: ২ জুন ২০২৬, বিকেল ৪:২১ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮
Shares
ব্যাংকগুলোকে সর্বজনীন পেনশনে আনতে উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে গতি ও স্কিমগুলোর আওতা বৃদ্ধি করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ঝিমিয়ে পড়া জনবান্ধব কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে তপসিলি সব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পেনশনের আওতায় আনতে চায় কর্তৃপক্ষ। এ জন্য সব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে বসছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও পেনশন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশনের কার্যক্রম যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে পেনশন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন করে স্কিমগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, এমনকি ৯৫ শতাংশ গ্রাহক সর্বজনীন পেনশনের কিস্তি জমা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমান বিএনপি সরকার সর্বজনীন পেনশনের কার্যক্রমে গতি আনতে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সূত্র জানায়, তফসিলি ব্যাংকের অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে পেনশন ব্যবস্থা চালু নেই। তবে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ) বা অংশীদারমূলক ভবিষ্য তহবিল চালু আছে। কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে এই কর্মজীবী শ্রেণির মানুষদের পেনশনের আওতায় আনার জন্য পেনশন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও পেনশন কর্তৃপক্ষ তফসিলি ব্যাংকগুলোর কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা বৈঠক করতে চিঠি প্রদান করেছে।

আর্থিক বিভাগের চিঠি থেকে জানা যায়, প্রগতি স্কিমে তফসিলি ব্যাংকসমূহের কর্মরত কর্মচারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বুধবার সকালে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জনমিতির তথ্য মতে, গড় আয়ু বৃদ্ধিতে দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে বেসরকারি খাতে কর্মরত বা পেনশনের আওতার বাইরে থাকা মানুষদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এসব শ্রেণির মানুষদের সর্বজনীন পেনশনের প্রগতি স্কিমের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে পেনশনের আওতা বৃদ্ধিতে আগামীতে বিজিএমইএ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকের আওতায় রয়েছে। এসব ব্যাংকে কর্মরত কয়েক লাখ মানুষকে প্রগতি পেনশন স্কিমের আওতায় আনতে চায় কর্তৃপক্ষ। প্রগতি স্কিমের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারী বা ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নির্দিষ্ট হারে জমা প্রদানপূর্বক এ স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের জন্য এ স্কিমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্কিমের জমার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ না করলেও, ওই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারীর নিজ উদ্যোগে এককভাবে এ স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান টাইমস টুডেকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম থমকে ছিল। আবার নতুন করে কার্যক্রম বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে সব তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে, বেসরকারি খাতে যারা কাজ করেন, তাদের পেনশনের আওতায় আনতে হবে। এখানে সব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।