...|...|...

খেলা

বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

টাইমস টুডে স্পোর্টস
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, রাত ৯:২৫ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৪৮
Shares
বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কাটল ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে প্রথমার্ধের ১-১ সমতার পর দ্বিতীয়  চোটের কারণে বেলজিয়ান প্রধান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার মাঠ ছাড়া এবং ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোল লুইস ডি লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের শেষ চারের আনন্দ এনে দেয়। পুরো ম্যাচে স্প্যানিশ আর্মাডারা দাপুটে ফুটবল খেলে আধিপত্য বজায় রাখলেও, রেড ডেভিলসরা সমতায় ফিরে স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গে ফাটল ধরিয়ে তাদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত লড়াকু জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেন।

আজকের ম্যাচে স্পেনের শুরুর একাদশে পেদ্রির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেননি তিনি। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন রুইজ। ডি-বক্সের খুব কাছ থেকে দানি ওলমোর নেওয়া জোরালো শটটি বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। রিবাউন্ড থেকে ধেয়ে আসা বলে রুইজের নেওয়া শটটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। স্পেনের এতদিনের অভেদ্য রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে চমৎকার এক পাল্টা-আক্রমণ সাজায় তারা। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করে বল জালের ঠিকানায় পাঠান চার্লস ডি কেটেলারা। চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল স্পেনের জালে জড়ানো প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম না করা স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গ অবশেষে ভাঙতে সফল হয় বেলজিয়াম। ডি কেটেলারার এই গোলের পর ম্যাচে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চললেও বড় ধরনের ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের অতন্দ্র প্রহরী থিবো কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে স্পেনের বিধ্বংসী আক্রমণভাগকে আটকানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়ে গোলপোস্টের নিচে বদলি হিসেবে নামেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।

কোর্তোয়ার বিদায়ের পর স্প্যানিশ আক্রমণ আরও তীব্র হয়। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতর সৃষ্টি হওয়া জটলা থেকে বল পেয়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। বল পাওয়া মাত্রই কোনো ভুল না করে, ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল গোলপোস্টের একদম মাঝখান দিয়ে জালের ঠিকানায় পাঠান তিনি (২-১)। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় গোলের পর ম্যাচে আর কেউ গোল করতে পারেনি। ফলে ২-১ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে সেমিফাইনালের মঞ্চে পা রাখল স্পেন।