বিশ্বসেরা দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম শান্ত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের (৮ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।
২০২৬ সালের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের প্রকাশিত এ তালিকায় পরিবেশবিজ্ঞানে বিশ্বের ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৪ জন গবেষকের মধ্যে তার অবস্থান ১ হাজার ৫৬৯তম। এ হিসাবে তিনি এ বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১ দশমিক ১ শতাংশ গবেষকের মধ্যে স্থান পেয়েছেন। তার গবেষণার অন্যান্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি এবং ভূবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞান।
বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত রয়েছেন। তার গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন। ইংরেজিতে যা ‘এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ (ইএসজি) নামে পরিচিত। এ বিষয়ে পরিবেশগত প্রভাব, সামাজিক দায়িত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করা হয়।
নিজের এ অর্জনে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাসিবুল ইসলাম জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথচলায় শেখা এবং এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ স্বীকৃতি তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও গবেষণার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
গবেষণার এ যাত্রায় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য তুরস্কের আনাদোলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাম ইশিক, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রহমতুল্লাহ ইমন, যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডগলাস কুক, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাসুদ রানা এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. আসফাকুর রহমান রূপকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি গবেষণার সাথে যুক্ত সব সহলেখকের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘তুমি কী করতে চাও, তা আগে বুঝতে হবে। নিজের বিষয়কে ভালোবাসতে হবে। আমি যখন গবেষণা করতাম, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ছিল না। অনেক কষ্ট করে শিখতে হয়েছে। এখন যেহেতু এআইয়ের যুগ, তাই আমি মনে করি, তোমরা মন থেকে চাইলে আমার চেয়েও ভালো করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কখনওই এমনটা মনে করা যাবে না যে, আমি পাবনার মতো জায়গা থেকে পারব কি না। তোমার ইচ্ছা থাকলে তুমি অবশ্যই পারবে।’
হাসিবুল ইসলাম জানান, তার এ পথচলায় বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন ভালোবাসা, সহযোগিতা ও উৎসাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেও নিয়মিত শেখার মাধ্যমে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের এ অর্জনকে বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন হাসিবুল ইসলাম।


