বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ডলারের দরপতন ও তেলের দাম কমে আসায় মূল্যবান এ ধাতুর দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। পরে গ্রিনিচ মান সময় ০৪টা ৩২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত গোল্ড ফিউচার্সের দামও ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২১ দশমিক ৮০ ডলারে ওঠে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার খবর এবং ডলারের দর কিছুটা কমে যাওয়ায় সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাঁর মতে, তেলের দাম কমায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বাজারের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে স্বর্ণের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রবিবার ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি এখনো চুক্তির বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিটির দাম কমেছে।
বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হবে। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এসব পরিসংখ্যান থেকে মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে চান বিনিয়োগকারীরা।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ বলে মনে করছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ বেড়েছে। অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশটিতে ভোক্তা আস্থার সূচকও কমেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ দশমিক ৪০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম একই হারে বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে।



