...|...|...

খেলা

বিশ্বকাপে ঘানার ওঝার ‘কালো জাদু’ নিয়ে তোলপাড়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:১৮ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৩৭
Shares
বিশ্বকাপে ঘানার ওঝার ‘কালো জাদু’ নিয়ে তোলপাড়

ফুটবলে কৌশল, দক্ষতা আর ভাগ্যের পাশাপাশি কুসংস্কার ও রহস্যময় বিশ্বাসের গল্প খুব একটা নতুন নয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ঘানার বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ঘানার আলোচিত আধ্যাত্মিক চিকিৎসক ও ওঝা নানা কওয়াকু বোনসাম। তার দাবি, হ্যারি কেইনের গোল না করার পেছনে কাজ করেছে তারই প্রয়োগ করা ‘আধ্যাত্মিক শক্তি’!

গ্রুপ পর্বে ঘানা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ড আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও জালের দেখা পায়নি। ইংলিশ অধিনায়ক কেইন বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা কওয়াকু বোনসামের একটি ভিডিও। সেখানে তিনি দাবি করেন, ঘানার স্বার্থে কেইনের ওপর তিনি সাময়িক একটি ‘অভিশাপ’ প্রয়োগ করেছিলেন।

ম্যাচের আগেই বোনসাম জানিয়েছিলেন, তিনি জানেন কীভাবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে হয়। তার ভাষায়, তিনি কেইনের কোনো ক্ষতি চাননি; শুধু চেয়েছিলেন ঘানার বিপক্ষে যেন তিনি গোল করতে না পারেন।

ম্যাচের পর ফেসবুকে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে বোনসাম দাবি করেন, তিনি এখন হ্যারি কেইনের ওপর থেকে সেই প্রভাব সরিয়ে নিচ্ছেন, যাতে পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ড অধিনায়ক আবার গোল করতে পারেন। ভিডিওতে তাকে কিছু অদ্ভুত আচার-অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়। নিজেকে তিনি ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ব্যক্তি’ বলেও দাবি করেন।

ঘানার স্থানীয় ভাষায় ‘বোনসাম’ শব্দের অর্থ ‘শয়তান’ বা অশুভ আত্মা। তবে এটি তার প্রকৃত নাম নয়; নিজের পরিচিতি বাড়ানোর জন্যই তিনি এই উপাধি ব্যবহার করেন। ১৯৭৩ সালের ২০ আগস্ট ঘানায় জন্ম নেওয়া বোনসাম নিজেকে ‘দ্য গ্রেট অথেন্টিক ম্যান’ নামে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

ছোটবেলা থেকেই বোনসাম আফ্রিকার আকান নামের এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে বড় হয়ে উঠেছেন, যাদের মধ্যে তন্ত্রসাধনার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। তার চাচা পাপা কুমা কোফি অতসিওয়া ছিলেন একজন নামকরা ওঝা। চাচার সঙ্গেই আধ্যাত্মিক বিষয়ে তার হাতেখড়ি। বোনসামের দাবি, ১৯ বছর বয়সে গির্জায় যাওয়ার পথে বজ্রপাতের মতো এক রহস্যময় ঘটনার পর তিনি অলৌকিক শক্তির অধিকারী হন।

বিতর্কের সঙ্গে বোনসামের সম্পর্ক অবশ্য এটাই প্রথম নয়। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। সেবার তিনি দাবি করেছিলেন, পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হাঁটুর চোটের পেছনে তার আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাব ছিল! যদিও রোনালদোর চোট বা পারফরম্যান্সের সঙ্গে তার দাবির কোনো বাস্তব সম্পর্ক কখনোই প্রমাণিত হয়নি।

ঘানার রাজধানী আক্রায় তিনটি আধ্যাত্মিক উপাসনালয় পরিচালনা করেন বোনসাম। তার দাবি, তিনি স্থানীয় দেবতা ‘কোফি ওডু’র আশীর্বাদে মানুষকে নানা সমস্যার সমাধান দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ জন নারী-পুরুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসেন। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও মানুষ তার কাছে ছুটে আসেন বলে দাবি তার।

আধ্যাত্মিক পরিচয়ের বাইরে তার জীবনযাপনও বেশ বর্ণিল। দামি পোশাক, বিলাসবহুল গাড়ি ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনধারার জন্য তিনি প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। ২০২০ সালে ঘানার অফিনসো নর্থ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচিত হতে না পারলেও পেয়েছিলেন হাজারের বেশি ভোট।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বেশ আলোচিত। একাধিক বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং অসংখ্য প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, তার সন্তানের সংখ্যা ১৪!

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কেইন বা রোনালদোর মতো তারকাদের পারফরম্যান্সে তার প্রভাবের বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও নিছক কাকতালীয় ঘটনা। এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবু বড় টুর্নামেন্ট এলেই নানা কওয়াকু বোনসামকে ঘিরে রহস্য, কৌতূহল ও বিতর্ক নতুন করে ফিরে আসে, যা তাকে বিশ্ব ফুটবলের এক ব্যতিক্রমী ও বিনোদনদায়ী চরিত্রে পরিণত করেছে।