দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে লক্ষ্মীপুরের রাজনীতিতেও। গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি ও ছাত্রশিবির নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।
এরই মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) রাতে লক্ষ্মীপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আওয়াল হামদু নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সুসময়ে আগাছা তৈরি হয়।’
ছোট এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। অনেক নেটিজেনই জানতে চান, পোস্টটি কাদের উদ্দেশে করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সাথে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৭ জুন) গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ওই সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে লক্ষ্মীপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আওয়াল হামদু বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, বিএনপির দল পরিচালনা করা হয় মাদকের টাকা দিয়ে। এটি জাতির কাছে এখন স্পষ্ট। তারা সভা-সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেও মূলত মাদক নিয়ন্ত্রণ করে তারাই।
হামদুর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে 'সারাদেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টায় উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে' লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পশ্চিম ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান।
সমাবেশে তিনি বলেন, "সারা বাংলাদেশে বিএনপির বিরুদ্ধে একটি গুপ্ত সংগঠন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সেই সংগঠনকে একটি কথাই বলব—আপনারা রাজপথে ছিলেন না। সতেরো বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছে। আপনারা পাকিস্তানে পালাতে পারবেন না, কারণ পাকিস্তানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ভারতও আপনাদের জায়গা দেবে না।"
ছাত্রদলের ওই বিক্ষোভ ও পাল্টা বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামদুর ফেসবুক পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করেননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি। ফলে পোস্টটি কাদের উদ্দেশে করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও নানা ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।
এ বিষয়ে আব্দুল আওয়াল হামদুর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার পোস্টের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।


