...|...|...

বিনোদন

বিকৃত কনটেন্টের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন জাহিদ হাসান

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ভোর রাত ৫:১২ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৩৪
Shares
বিকৃত কনটেন্টের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন জাহিদ হাসান

নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি অভিনেতা জাহিদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ আর রিচ বাড়ানোর চক্করে তারকাদের বক্তব্য বিকৃত করা কিংবা আপত্তিকর শিরোনামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নোংরা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি অভিনেতা জাহিদ হাসান। 

সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক পেজে তার নিজের বক্তব্য বিকৃত করে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিওর সাথে জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রকাশ করায় চরম বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ এই অভিনেতা।

এই ধরনের সাইবার বুলিং আর নোংরামির মুখে আর কোনো ছাড় না দিয়ে সংশ্লিষ্ট পেজ ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম ও মানসিক অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেছিলেন, 'আমি কষ্টে মরে যাচ্ছি, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করি।'

এটি জীবনের স্বাভাবিক চড়াই-উতরাই নিয়ে করা একটি সাধারণ মন্তব্য হলেও দুঃখজনকভাবে কয়েকটি ফেসবুক পেজ সেই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত এক অভিনয়শিল্পীর জানাজার একটি পুরোনো ভিডিওর সাথে জাহিদ হাসানের সেই সাক্ষাৎকারের অডিও জুড়ে দিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর শিরোনামে কনটেন্ট তৈরি করা হয়, যা দেখে রীতিমতো হতবাক ও মর্মাহত হয়েছেন এই গুণী অভিনেতা।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহিদ হাসান জানান, বর্তমানে এসব ফেসবুক পেজ সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করছে এবং দিন দিন এদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কারও সম্মানহানি করার অধিকার কারও নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, তার আইনজীবী এবং ডিজিটাল টিম ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোর তথ্য-উপাত্ত ও লিংক সংগ্রহ করেছে।

কারা পরিকল্পিতভাবে সস্তা ভিউ পাওয়ার আশায় সমাজে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়াচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাহিদ হাসান আরও জানান যে তিনি ইতিমধ্যেই পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। সেখান থেকে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্রুত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এভাবে দিনের পর দিন পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি এ প্রসঙ্গে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যাতে এই ধরনের অনলাইন নোংরামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নজরদারি ও কঠোরতা বাড়ানো হয়।

ক্ষোভের সাথে এই গুণী অভিনেতা আরও যোগ করেন, একজন শিল্পী, খেলোয়াড়, কবি, সাহিত্যিক কিংবা রাজনীতিবিদ তৈরি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। তাদের কোনো বক্তব্য বা ব্যক্তিগত মুহূর্তকে বিকৃত করে মানুষের সামনে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা শুধু অনৈতিক নয়, বরং একটি গুরুতর অপরাধ।

সমাজে নেতিবাচকতা ছড়ানো হাতেগোনা কয়েকটি ফেসবুক পেজ বা গ্রুপকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে অন্যরাও সতর্ক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহযোগিতায় জাহিদ হাসানের এই কঠোর পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে চলা নোংরা ট্রল এবং ফেক নিউজের সংস্কৃতি বন্ধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।