...|...|...

খুলনা

বিএনপির ইতিহাস চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ইতিহাস: হান্নান মাসউদ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৮
Shares
বিএনপির ইতিহাস চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ইতিহাস: হান্নান মাসউদ

এনসিপি সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।

বিএনপি সরকার জনগণের সরকার নয়, বরং সিন্ডিকেটের সরকারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। বিএনপির ইতিহাস চাঁদাবাজি, গুন্ডাতন্ত্র ও সন্ত্রাসের ইতিহাস।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী গোলচত্বরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমরা আজ এখানে এসেছি জনগণের বিশ্বাস ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলতে। তারেক রহমানের ছয় মাসের দুঃশাসন, জনগণের সঙ্গে বিএনপি সরকারের প্রতারণা এবং দেশের মানুষের মুক্তির কথা তুলে ধরতে এসেছি। বিএনপি অতীতেও ক্ষমতায় এসে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাগুরা ও মিরপুরের নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের উদ্দেশ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন আয়োজন করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার উদ্দেশ্যে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলেও বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে পারেনি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেও দলটি ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সংবিধান ও বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার সেই জনরায় উপেক্ষা করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। জনগণের সরকার হওয়ার পরিবর্তে তারা বসুন্ধরা, মেঘনা ও এস আলমের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী সরকারে পরিণত হয়েছে। দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিলও বেড়েছে। তেল ও গ্যাসের সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে চাঁদাবাজির অর্থের ভাগ বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও গুন্ডামির অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন মুক্তি চায়। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট জনগণের মুক্তি ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছে। বিএনপি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেওয়া, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমানো এবং ছাত্রদল-যুবদলের নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের মহড়া বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের পালস বুঝতে না পারলে বিএনপি সরকারকেও ক্ষমতা ছাড়তে হবে। যেভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, একই পরিণতি তাদেরও হতে পারে।

১১ দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ রেজাউল করিম, এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন, অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, মাওলানা রুহুল আমিন খান এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আহমেদ আব্দুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।