যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত।
প্রাথমিকভাবে কার্যালয়ের ছাদে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা হয়েছে ৬ কিলোওয়াট ক্ষমতার ইনভার্টার। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কার্যালয়ের লাইট ও ফ্যান চালানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি। ছাদের জায়গা বিবেচনায় ভবিষ্যতে প্যানেলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৫ বছরের জন্য নির্ধারিত চার্জে রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা নেওয়া হবে। প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প চালু উপলক্ষে বক্তব্যে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি অনুসরণ করে দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং এ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়েও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগ্রহ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্যাপেক্স ও ওপেক্স দুই ধরনের মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। ক্যাপেক্স মডেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। অন্যদিকে ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্ধারিত দরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিনবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তরুণ ও যুবকদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহজ শর্তে ঋণ এবং স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
এ সময় যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেচপাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের বিদ্যুৎ ও ডিজেলনির্ভরতা কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমলে সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে কৃষিপণ্য পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহম্মেদ, সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্যসচিব সাজেদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি, সদস্যসচিব শাহানেওয়াজ ইমরানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।


