আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার প্রতীকী চেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি দাবি করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, দীর্ঘদিনের আখচাষি হিসেবেই এ প্রণোদনা পেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জনসভার প্রথম পর্বে দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ল্যাপটপের বাটন চেপে প্রণোদনা কার্যক্রম উদ্বোধনের পর কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে ১৫টি মিল জোনের ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে প্রথমেই আবু সাঈদ চাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার সকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি লিখেছেন, বংশপরম্পরায় আমার বাপ-দাদা থেকে শুরু করে আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে আখ চাষ ও আখ সরবরাহের সাথে সম্পৃক্ত। ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছি। আগামীতেও করব ইনশা আল্লাহ।
তবে তাতেও সমালোচনা থামছে না। একজন সংসদ সদস্য হয়ে কেন মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনা আবু সাঈদ চাঁদ গ্রহণ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষি ও কৃষক রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহমুদ জামাল কাদেরী। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য তো অসচ্ছল কৃষক নন। তিনি কেন এই সামান্য সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করবেন?
কাদেরী বলেন, সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে শতভাগ আখচাষিকেই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তবে এটা নিয়ে আমার সংশয় আছে। আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র এটাই যে জনপ্রতিনিধি হলে আমরা সবটাই নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যেখানে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করছেন, সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে কেন প্রণোদনার অর্থ নিতে হবে?
তিনি আরও বলেন, এই চর্চা নতুন নয়। আগেও দেখেছি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলীয়করণ হয়। এখনো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সম্প্রতি আমরা সারের ডিলার নিয়োগেও এটা দেখলাম। সেখানে যোগ্যদের বাদ দিয়ে পুরোপুরি দলীয় বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ হয়েছে।
জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, যারা এসব কথা বলছেন তারা বিষয়গুলো জানেন না। সুগার মিল থেকে তদন্ত হয়। যারা আখ চাষ করে তারা প্রণোদনা পায়। গত বছর আমার ১৮-২০ বিঘা আখ ছিল। এবারও আছে। আমরা বাপ-ব্যাটা মিলে ১৯ হাজার টাকা পেয়েছি। সেটা তো এমপি হিসেবে নয়। একজন আখচাষি হিসেবে পেয়েছি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেক নেওয়ার জন্য তাকেই নির্বাচিত করার প্রশ্নে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, আমি নিতে চাইনি। ওরা (সুগার মিল কর্তৃপক্ষ) দিয়েছে। তাই নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সুগার মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) তানজিমুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কারা প্রণোদনার প্রতীকী চেক গ্রহণ করবেন তা ঠিক করতে আমরা আমাদের জোনের সব আখচাষির নাম কম্পিউটারে দিয়েছি। কম্পিউটার নামের আদ্যক্ষর দেখে তালিকা করে দিয়েছে। আবু সাঈদের “আ” আগে থাকায় সংসদ সদস্যের নাম চলে এসেছে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছে। আমরা কিছু করিনি।
তিনি জানান, আবু সাঈদ চাঁদ গত মৌসুমে ২ একর ৫০ শতাংশ জমিতে আখের সাথে সাথি ফসলের চাষ করেছেন। সে হিসেবে তিনি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই আখ চাষ শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করতেই এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রণোদনার নীতিমালায় আরও কিছু শর্ত আছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান দাবি করেন, দেশের ১৫টি মিল জোনের একজন আখচাষিও প্রণোদনার অর্থ থেকে বঞ্চিত হননি। আখচাষি হিসেবে আবু সাঈদ চাঁদও পেয়েছেন। তিনি যে সংসদ সদস্য এই ক্ষেত্রে তা বিবেচ্য বিষয় ছিল না।


