...|...|...

জাতীয়

বাক-স্বাধীনতা ও নাগরিক সুরক্ষায় সরকার সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:১৭ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩১
Shares
বাক-স্বাধীনতা ও নাগরিক সুরক্ষায় সরকার সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারও চরিত্রহননকে এর সাথে এক করে দেখা যায় না।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, সংস্থাটির টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইআরআই প্রতিনিধিদল তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব বিকাশ এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চার কর্মসূচি সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করে।

জন ফ্লুহার্টি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীরা সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। একই সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে শালীনতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখছে সরকার।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যমকর্মী, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য হবে ডিজিটাল পরিসরে শালীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আইন যাতে কোনোভাবেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ এবং রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।