...|...|...

বিশ্ব

বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৩১ দেশের পাইলট-কেবিন ক্রুর ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৩ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪০
Shares
বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৩১ দেশের পাইলট-কেবিন ক্রুর ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, এমন দেশের নাগরিকত্ব থাকলেই এখন আর সেই দেশের আকাশসীমায় বা ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে পাইলট কিংবা কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করা যাবে না। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। নতুন এই নিয়ম নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন করে হিসাব-নিকাশ। ইতিমধ্যে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এ নিয়ম মেনে চলবে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম এবং ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের তথ্যের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে মোট ৩১টি দেশের নাগরিক। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও আলজেরিয়া।

তবে সংখ্যাটি নিয়ে ভিন্নমতও আছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ সিডিউলিং স্মারকে তালিকায় ছিল ২৯টি দেশ। এ ছাড়া আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনও তালিকাভুক্ত বলে জানা গেছে।

এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ১ অক্টোবর বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে জানায়। নির্দেশনায় বলা হয়, ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা চলবে না, যাদের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

এর ফলে যেসব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসে এসব দেশের কর্মী আছেন, তাদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের জন্য ক্রুদের দায়িত্ব নতুন করে সাজাতে হতে পারে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা জারির আগের দিন, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ঘটে অস্বাভাবিক ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাতে আল জাজিরা জানায়, ওমানি এক কো-পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করারও চেষ্টা করেছিলেন। হামলায় আহত ক্যাপ্টেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

তবে এই ঘটনা এবং নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্য সব এয়ারলাইনের মতো তাদেরও গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত বিধি মানতে হয়। মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ একটি স্মারকে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের সতর্ক করা হয়েছে, নিয়ম না মানলে সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মী উভয়ই শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।

চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম এই বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা আল জাজিরাকে জানান, তারা নির্দেশনাটি পর্যালোচনা করেছেন এবং সব বিধি মেনে চলছেন। তার দাবি, এতে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা, ক্রু ব্যবস্থাপনা বা নিয়োগে কোনো প্রভাব পড়েনি।

মার্কিন এয়ার সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধের বিষয়ে অবহিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তবে ইসরায়েলের নির্দেশনা পেয়েছে কি না কিংবা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হয়নি তারা।

জাতীয়তার ভিত্তিতে বিমানকর্মীদের সাথে এমন আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর সামনে এটি কী ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।