...|...|...

জাতীয়

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে: মাহদী আমিন

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, বিকেল ৪:০৩ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩২
Shares
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তার ভাষায়, দুই দেশের প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই অংশীদারিত্ব পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, সহযোগিতা এবং উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যাবে।

তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের প্রশংসা করেছেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, চীনের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশে উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তর করছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব খাতে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রয়েছে, সেসব শিল্প বাংলাদেশে স্থাপন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, সবুজ জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন সহযোগিতা বাড়াতে চায়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনার পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কারিগরি সহায়তায় চীন কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবও এসেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীন সহযোগিতা করতে চায়।

জনসম্পৃক্ত সম্পর্ক জোরদারে শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষার জন্য শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সহায়তা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, রোবটিক সার্জারি এবং হাসপাতাল উন্নয়নে চীনের আগ্রহের কথা জানান তিনি। এছাড়া চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে মিয়ানমারের সাথে সংলাপ এগিয়ে নিতে চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশকে চীন সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে চীন সেটিকে স্বাগত জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।