২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউনে বল বিকৃতির আলোচিত সেই ঘটনায় শুধু তিন ক্রিকেটার নন, অস্ট্রেলিয়ার পুরো দলই জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন উসমান খাজা।
তার অভিযোগ, দলের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবাই জানতেন শিরিষ কাগজ দিয়ে বলের আকৃতি বদলানোর বিষয়টি। এমনকি কেপ টাউন টেস্টের আগের ম্যাচেও একই কাজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ওপেনার।
মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) প্রকাশিত হতে যাচ্ছে উসমান খাজার আত্মজীবনী ‘সবর’। বইটি প্রকাশের আগে আজ শনিবার ‘নাইন পেপার্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০১৮ সালের ‘স্যান্ডপেপার-গেট’ কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক এই তথ্য জানান তিনি। খাজার ভাষ্য, বল বিকৃতির পরিকল্পনা সম্পর্কে ড্রেসিংরুমের সবাই অবগত ছিলেন। বিষয়টি শুধু স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
সাক্ষাৎকারে খাজা বলেন, ‘আমরা সবাই এর সাথে জড়িত ছিলাম। ব্যাটাররা আলাদা নয়, বোলাররাও আলাদা নয়, এমনকি স্টাফরাও নয়। আমরা সবাই এর মধ্যে ছিলাম।’
২০১৮ সালের ওই ঘটনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে কেবল স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দায়ী করা হয়েছিল। শাস্তস্বরূপ স্মিথ ও ওয়ার্নারকে এক বছর এবং ব্যানক্রফটকে নয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে খাজার দাবি, ওই ঘটনায় পুরো দলের দায় থাকলেও বলি করা হয়েছে কেবল ওই তিনজনকে।
ঘটনার পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের দলগতভাবে দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন জানিয়ে খাজা বলেন, ‘ম্যাচের পরপরই আমি তাদের বলেছিলাম, দল হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে। কী ঘটছিল, তা আমরা সবাই জানতাম। কিন্তু পুরো দলের দায় না নিয়ে ওই তিনজনকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।’
তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে খাজা জানান, পুরো টেস্টে তিনি ব্যানক্রফটের পাশেই বসেছিলেন, অথচ তদন্তকারীরা তাঁকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদই করেননি। তার বিশ্বাস, তিনি সত্যিটা বলে দেবেন জেনেই তাকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এদিকে খাজার এমন মন্তব্যের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আট বছর আগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তখনকার তদন্ত যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে খাজার আরও অভিযোগ, বল বিকৃতির কৌশলে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ ছিল এবং অস্ট্রেলিয়া কেবল তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

