সিলেটের মাঠে ব্যাট হাতে যেন একের পর এক রেকর্ড ভেঙে অনন্য কীর্তি গড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই ২৪২ রানের অপরাজিত এক রূপকথার ইনিংস খেলেছেন তিনি।
এই অনবদ্য ইনিংসে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরানোই নয়, মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ভেঙে দেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক এখন এই তরুণ ব্যাটার।
মাত্র চার ইনিংসে ৫৪ রান ও মিরপুরে বাজে শটে আউট হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হৃদয়। সিলেটে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ব্যাটেই। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা ২১৯ রানের ইনিংস পেছনে ফেলে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।
রেকর্ড গড়ার দিনে ছক্কার ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন হৃদয়। ইনিংসে ১১টি ছক্কা মেরেছেন তিনি, যা টেস্টে এক ইনিংসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার আগের রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের (৭টি)।
এছাড়া টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটিই প্রথম। এর মাধ্যমে মুশফিক, সাকিব ও তামিমের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির ক্লাবে নাম লেখালেন হৃদয়।
দলের ইনিংসে অবদানের দিক থেকেও হৃদয়ের এই ইনিংসটি অনন্য। বাংলাদেশের ৩৮৬ রানের মধ্যে তার একার সংগ্রহ ২৪২ রান, অর্থাৎ দলের মোট রানের ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ এসেছে তার ব্যাট থেকে।
পূর্ণাঙ্গ ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এটিই সর্বোচ্চ অবদান। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং সিলেটের মাঠে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও এখন তার দখলে।
হৃদয়ের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ভর করে শেষ দিকের উইকেটেও এসেছে রেকর্ড জুটি। বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট ১৮৪ রানে পড়ার পর শেষ তিন উইকেটে যোগ হয়েছে আরও ২০২ রান, যা এই সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এক দিনে রান তোলার ক্ষেত্রেও সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে গেছেন হৃদয়।
২৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে এদিন তিনি যোগ করেছেন ২১৩ রান, যা টেস্টে এক দিনে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। এছাড়া ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় বাউন্ডারি থেকে ১৫৪ রান তুলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

