...|...|...

খেলা

পেনাল্টিতে শেষ গোল, বিদায়ের গল্পে অদ্ভুত এক মিল নেইমার-মেসি-রোনালদোর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫০
Shares
পেনাল্টিতে শেষ গোল, বিদায়ের গল্পে অদ্ভুত এক মিল নেইমার-মেসি-রোনালদোর

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক ফুটবলের তিন মহাতারকা লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। খেলার ধরন ও ফুটবলীয় দর্শনে ভিন্নতা থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে তাদের মধ্যে মিলেছে এক অদ্ভুত সমীকরণ। জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের শেষ গোলটি তিনজনই করেছেন পেনাল্টি থেকে। সময়ের ব্যবধানে তাদের বিদায়ে যেন পর্দা নেমেছে ফুটবলের এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের।

২৮ জুলাই ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন নেইমার। এরপর ৩১ আগস্ট আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান মেসি। সবশেষ গত ৫ নভেম্বর পর্তুগালের জার্সিতে আর না খেলার ঘোষণা দেন রোনালদো। পাঁচ মাসের ব্যবধানে তিন মহাতারকার এমন বিদায় ফুটবলবিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনজনের বিদায়ের পথ আলাদা হলেও শেষ গোলের গল্পে রয়েছে মিল। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন নেইমার। মেসি নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে স্পটকিক থেকে গোল করেন। অন্যদিকে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর শেষ গোলটিও এসেছিল পেনাল্টি থেকে, উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের পথচলা ছিল নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতায় ভরপুর। ড্রিবলিং, গতি ও অসাধারণ ফুটবলীয় দক্ষতায় দীর্ঘদিন সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেও দলকে জেতাতে পারেননি। সেই ম্যাচের পর জাতীয় দলের হয়ে আর গোল করা হয়নি তার। পরে ২৮ জুলাই বিদায়ের ঘোষণা দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন মেসি। ৩১ আগস্ট অবসরের ঘোষণা দিলেও দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ পান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। পেনাল্টি থেকে করা গোলটিই হয়ে থাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ গোল। ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানে জেতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সবশেষ ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে গোলের পর গোল করে যাওয়া এই তারকা এবার মনোযোগ দিতে চান ক্লাব ফুটবলে। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোলটিও এসেছিল পেনাল্টি থেকে, উয়েফা নেশন্স লিগে। গোলের প্রতি অদম্য ক্ষুধা নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠ মাতানো পর্তুগিজ কিংবদন্তির বিদায়ী অধ্যায়েও তাই মিল খুঁজে পাওয়া যায় অন্য দুই তারকার সাথে।

তবে এই তিন তারকার অবদান শুধু গোল কিংবা শিরোপার পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। নেইমার ফুটবলকে দিয়েছেন শৈল্পিক সৌন্দর্য, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতার অনন্য প্রদর্শনী। মেসি বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস ও অবিশ্বাস্য গোলের মাধ্যমে ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে রোনালদো হয়ে উঠেছেন কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। পর্তুগালের হয়ে ইউরো ও উয়েফা নেশন্স লিগ জয়ে তার অবদানও স্মরণীয়।

একসময় ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বড় অংশজুড়ে থাকত এই তিন তারকার তুলনা। কে সেরা, কার গোল বেশি, কার ড্রিবলিং ভালো কিংবা কার শিরোপা বেশি এসব বিতর্কে বিভক্ত ছিলেন সমর্থকরা। সময়ের সাথে সেই প্রতিযোগিতার জায়গা নিয়েছে স্মৃতিচারণা। এখন তাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের চেয়ে ফুটবলে রেখে যাওয়া অবদানই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

তিনজনের আন্তর্জাতিক বিদায়ে বিশ্ব ফুটবলে একটি যুগের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা মাঠ মাতাবেন, নতুন রেকর্ড তৈরি হবে, জন্ম নেবে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে একই সময়ে মেসি, রোনালদো ও নেইমারের মতো তিন তারকার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব তৈরি করা সহজ হবে না।

ভবিষ্যতে হয়তো নতুন ফুটবলাররা তাদের রেকর্ড ভাঙবেন। কিন্তু একই সময়ে এই তিন মহাতারকার ফুটবল উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া প্রজন্মের কাছে তাদের স্মৃতি বিশেষ হয়েই থাকবে। মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর দুর্দান্ত উদ্‌যাপন কিংবা নেইমারের চোখধাঁধানো ড্রিবলিং সবই ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

ফুটবল চলবে, নতুন তারকা আসবেন, নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। কিন্তু মেসি, রোনালদো ও নেইমার যে সময়টিকে নিজেদের করে নিয়েছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি সহজ নয়। তাদের জাতীয় দল থেকে বিদায় তাই শুধু তিন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তিও।