হ্যালোইন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রঙিন পোশাক, গা ছমছমে আবহ আর শিশুদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ক্যান্ডি জমানোর ব্যস্ততা। তবে এই চিরাচরিত উদ্যাপনে এসেছে এক ব্যতিক্রমী হাওয়া। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় ‘বুকস ফর ট্রিটস ডে’ বা বই উপহার দেওয়ার দিবস। এই দিনে চকলেট কিংবা মিষ্টির বদলে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন-পুরোনো নানারকম গল্পের বই, যা শৈশবকে রঙিন করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় বই পড়ার আলো।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করা এবং হ্যালোইনের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলা। ক্যান্ডি বা চকলেটের মতো সাময়িক আনন্দের বদলে শিশুদের এমন কিছু উপহার দেয়া, যা তাদের কল্পনাশক্তি বাড়াবে এবং নতুন গল্পের জগতে নিয়ে যাবে।
কল্পনা করা যাক, হ্যালোইনের পোশাক পরে কোনো শিশু একটি বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল। সে হয়তো আশা করছে, হাতে পাবে ক্যান্ডি বা চকলেট। কিন্তু তার বদলে বাড়ির মালিক তাকে দিলেন একটি গল্পের বই। বইটির পাতায় অপেক্ষা করছে ড্রাগন, গোয়েন্দা কিংবা কথা বলতে পারা মজার সব প্রাণীর গল্প। অপ্রত্যাশিত এই উপহার শিশুটির মনে তৈরি করতে পারে নতুন কৌতূহল। বইটি থেকে জন্ম নিতে পারে আনন্দ, নতুন প্রশ্ন কিংবা প্রিয় কোনো গল্পের প্রতি ভালো লাগা।
যেভাবে শুরু হয়েছিল দিবসটি
১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরের লেখক রেবেকা মরগান (Rebecca Morgan) দিবসটির ধারণা চালু করেন। হ্যালোইনে শিশুদের ক্যান্ডির পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী আনন্দের কিছু উপহার দেয়ার চিন্তা থেকেই তার এ উদ্যোগ।
স্থানীয় একটি লাইব্রেরির বই বিক্রির আয়োজন থেকে তিনি ভালো অবস্থায় থাকা পুরোনো বই সংগ্রহ করেন। এরপর শিশুদের বয়স ও পড়ার উপযোগিতা অনুযায়ী বইগুলো আলাদা করে হ্যালোইনে বাড়ি বাড়ি আসা শিশুদের মধ্যে বিতরণ করেন। শিশুরা নিজেদের পছন্দ ও পড়ার সামর্থ্য অনুযায়ী বই বেছে নেয়ার সুযোগ পায়।
উদ্যোগটি শিশুদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। বই পেয়ে তারা যেমন আনন্দিত হয়, তেমনি অভিভাবকেরাও ক্যান্ডির বিকল্প হিসেবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে রেবেকা মরগান ‘বুকস ফর ট্রিটস’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও স্কুলে বই উপহার দেয়ার ধারণা ছড়িয়ে দেয়াই ছিল প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চল এবং কানাডাতেও উদ্যোগটি জনপ্রিয়তা পায়।
বর্তমানে প্রতিবছর বিভিন্ন পরিবার ও কমিউনিটি নতুন ও পুরোনো বই সংগ্রহ করে শিশুদের মধ্যে বিতরণ করে। কেউ বাড়ির সামনে বই রাখে, কেউ আয়োজন করে বই বিনিময়, আবার কেউ বই পৌঁছে দেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।
একটি ছোট উদ্যোগ কীভাবে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার চিরন্তন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে, ‘বুকস ফর ট্রিটস ডে’ তারই এক অনন্য উদাহরণ।
সূত্র: ডেজ অব দ্য ইয়ার

