...|...|...

ধর্ম

ইসলামে যে ৪ ধরনের উপহার দেওয়া-নেওয়া নিষিদ্ধ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪৩ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪৫
Shares
ইসলামে যে ৪ ধরনের উপহার দেওয়া-নেওয়া নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

উপহার আদান-প্রদান মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ায়। ইসলামে এ চর্চাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে উপহারের আড়ালে ঘুষ, সুদের সুবিধা কিংবা অন্যায় স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে সন্তানদের মধ্যে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখার নির্দেশনাও রয়েছে ইসলামে।

হাদিসে দেখা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উপহার গ্রহণ করতেন এবং উপহারদাতাকে প্রতিদানও দিতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৪)

তবে উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতির ওপর এর বিধান নির্ভর করে। ইসলামী শিক্ষায় এমন কয়েক ধরনের উপহার সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, যেগুলো অন্যায় সুবিধা বা অধিকারহরণের সাথে যুক্ত। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো—

১. সরকারি দায়িত্ব পালনের সুবাদে পাওয়া উপহার

সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি তার পদ বা দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উপহার গ্রহণ করলে তা ঘুষ বা অবৈধ সুবিধার পর্যায়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে একটি হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।

আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে সদকা সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন শেষে ওই ব্যক্তি বললেন, কিছু সম্পদ রাষ্ট্রীয় তহবিলের আর কিছু তাকে উপহার দেওয়া হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশ্ন করেন, তিনি নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে বসে থাকলে ওই উপহার পেতেন কি না।

এ ঘটনার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) বোঝান, দায়িত্বের কারণে পাওয়া সুবিধাকে ব্যক্তিগত উপহার বলে গ্রহণ করা যায় না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪২৫-মূল লেখায় উল্লেখিত নম্বর; প্রকাশের আগে হাদিসের নম্বর ও পাঠ নির্ভরযোগ্য সংস্করণ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।)

২. সুপারিশ বা কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে উপহার

কারও উপকার করা, বৈধ কাজে সহযোগিতা করা কিংবা প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু সেই উপকারের বিনিময়ে উপহার গ্রহণ করলে তা অন্যায় সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ তার কোনো ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করার কারণে উপহার পেলে এবং তা গ্রহণ করলে সে সুদের একটি বড় দরজায় প্রবেশ করল। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৪১)

অর্থাৎ, সুপারিশ বা সহযোগিতাকে ব্যক্তিগত লাভের উপায় বানানো উচিত নয়। বিশেষ করে চাকরি পাইয়ে দেওয়া, সরকারি কাজ করিয়ে দেওয়া কিংবা দায়িত্বের প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের বিনিময়ে উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

৩. ঋণ দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া

ইসলামে বিপদে থাকা কাউকে ঋণ দেওয়া একটি ভালো কাজ। তবে ঋণ দেওয়ার শর্ত হিসেবে বা ঋণের কারণে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ কিংবা বিশেষ সুবিধা নেওয়া সুদের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

আবু বুরদা (রহ.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রা.) তাকে সতর্ক করেছিলেন- কারও কাছে পাওনা থাকলে সেই ব্যক্তি যদি পাওনাদারকে উপহার হিসেবে সামান্য কিছু, এমনকি ঘাস বা খড়ও দেয়, তবে তা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে; কারণ, ঋণের সাথে সম্পর্কিত এমন উপহার সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৪২-হাদিস নম্বরটি প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন।)

এ বিষয়ে সুনান ইবনু মাজাহর একটি বর্ণনাতেও ঋণ দেওয়ার পর ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে উপহার বা বিশেষ সুবিধা গ্রহণ না করার নির্দেশনা এসেছে। তবে ঋণের সম্পর্কের আগেই উভয়ের মধ্যে নিয়মিত সৌজন্য বিনিময়ের প্রচলন থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

৪. সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করে উপহার দেওয়া

সন্তানদের উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ন্যায়বিচার বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া একজন সন্তানকে বেশি সম্পদ বা দামি উপহার দিয়ে অন্যদের বঞ্চিত করা পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

নু'মান ইবনু বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তার বাবা তাকে বিশেষ একটি দান করেছিলেন। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাক্ষী রাখতে চাইলে তিনি জানতে চান, অন্য সন্তানদেরও একই ধরনের দান করা হয়েছে কি না। উত্তর ‘না’ হলে তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৬-প্রকাশের আগে নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন।)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সন্তানদের উপহার দেওয়ার সময় ন্যায়সংগত আচরণ করা উচিত। তবে প্রয়োজন, অসুস্থতা বা বিশেষ পরিস্থিতির মতো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।