প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল দায়ভার এখন থেকে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর বর্তাবে। নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য সংগ্রহের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল না করলে কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন না করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশিকা জারি করে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও অ-পুনর্ব্যবহারযোগ্য সব প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার ও সিগারেট ফিল্টারের মতো অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রথম দুই বছর বৃহৎ শিল্প, পরবর্তী দুই বছর মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে গিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে। তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে তিন বছর মেয়াদি নিবন্ধন নিতে হবে।
কোম্পানিগুলোকে একক বা যৌথভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিনষ্ট করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির প্রথম দুই বছরে অন্তত ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ৩০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ১৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত বর্জ্য সংগ্রহ করলে তা ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে নির্দেশিকায়।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ কমবে। পাশাপাশি দেশে চক্রাকার অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে এবং প্লাস্টিক দূষণ নিরসনে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সহজ হবে।


