...|...|...

ধর্ম

পাতলা ওড়নায় চুল দেখা গেলে কি নারীর নামাজ হবে, কী বলছে ইসলামী বিধান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:২৮
Shares
পাতলা ওড়নায় চুল দেখা গেলে কি নারীর নামাজ হবে, কী বলছে ইসলামী বিধান

ছবি: সংগৃহীত

নামাজে নারীর সতর ঢাকা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ওড়না পাতলা হলে এবং তার ভেতর দিয়ে মাথার চুল দেখা গেলে নামাজ সহিহ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা যায়। ইসলামী বিধানবিদদের মতে, এর উত্তর নির্ভর করে কাপড় কতটা পাতলা এবং চুলের কতটুকু অংশ দেখা যাচ্ছে, তার ওপর।

সতর ঢাকা নামাজের শর্ত

চার মাযহাবের আলেমদের মতে, নামাজে নারীর মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত বাদে পুরো শরীর সতর, অর্থাৎ ঢেকে রাখা ফরজ। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী পা-ও এর বাইরে। মাথার চুল সতরের অংশ।

কাপড় কেমন হতে হবে

ফকিহদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাপড় এমন হতে হবে যাতে ভেতরের চুল বা ত্বকের রং বোঝা না যায়। ওড়না এত পাতলা হলে যে চুলের রং বা ত্বক স্পষ্ট দেখা যায়, তাহলে সতর ঢাকা হয়েছে বলে গণ্য হয় না। এ অবস্থায় নামাজ সহিহ না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে কাপড় ঘন হলে চুলের আকার সামান্য আন্দাজ করা গেলেও সাধারণত সমস্যা নেই।

সামান্য অংশ খোলা থাকলে মাযহাবভেদে পার্থক্য

চুলের সামান্য অংশ খোলা থাকলে নামাজের হুকুম নিয়ে মাযহাবগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে।

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, সতরের কোনো অঙ্গের (যেমন মাথার চুল) এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ একটি রুকন আদায়ের সমান সময়, অর্থাৎ তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলার মতো সময় খোলা থাকলে নামাজ ভেঙে যায়। এর কম অংশ খোলা থাকলে নামাজ হয়ে যায়।

শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে সতরের কোনো অংশ খোলা রাখলে নামাজ বাতিল বলে গণ্য হয়। তবে হাম্বলি মাযহাবে খুব সামান্য অংশ খোলা থাকলে ছাড় আছে।

মালেকি মাযহাবে অনিচ্ছায় সতর খুলে গেলে ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আবার পড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অনিচ্ছায় খুলে গেলে

নামাজের মধ্যে হঠাৎ ওড়না সরে গিয়ে চুল বেরিয়ে পড়লে এবং সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে নিলে সাধারণত সমস্যা হয় না বলে আলেমরা জানান।

করণীয় কী

আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী, নামাজের জন্য ঘন কাপড়ের ওড়না বা হিজাব ব্যবহার করা উচিত। ওড়না পাতলা হলে নিচে টুপি, স্কার্ফ বা আরেকটি কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে নেওয়া ভালো।

আগে পড়া নামাজ নিয়ে সন্দেহ থাকলে ওড়না কতটা পাতলা ছিল এবং চুল কতটা দেখা যাচ্ছিল, তা জানিয়ে নিজের এলাকার আলেম বা মুফতির কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। নামাজ কাযা করতে হবে কি না, তা এর ওপর নির্ভর করে।