...|...|...

সারাদেশ

পর্যটন শহরে বন্ধ সব সিনেমা হল : হারিয়ে গেছে রুপালী পর্দার সময়

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, রাত ১২:২৮ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:১৭
Shares
পর্যটন শহরে বন্ধ সব সিনেমা হল : হারিয়ে গেছে রুপালী পর্দার সময়

রুপালী পর্দার রিলসগুলো এখনো পড়ে আছে, জীর্ণ শীর্ণ অবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সময়ের হাউজ ফুল ভবনগুলো। ক্ষয়ে যাওয়া স্থাপনা রয়েছে নেই শুধু বড় পর্দার রঙিন আলো।

ঈদ কিংবা বিশেষ ছুটির দিনে বন্ধু-পরিবার নিয়ে দল বেঁধে সিনেমা হলে যাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল কক্সবাজারে, তা এখন প্রায় বিলুপ্ত। দেশের একমাত্র পর্যটন নগরীতে বর্তমানে কোনো চালু সিনেমা হল নেই, যা একসময় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও বিনোদনের বড় কেন্দ্র ছিল। এক দশক আগেও শহরে টকি হাউস, দিগন্ত সিনেমা হল এবং বিডিআর অডিটোরিয়াম, এই তিনটি প্রেক্ষাগৃহ সচল ছিল। এখন সবগুলোই বন্ধ।

১৯৬৮ সালে পর্যটন শহরে প্রতিষ্ঠিত টকি হাউস ছিল কক্সবাজারের প্রথম সিনেমা হল।
এরপর ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চালু হয় দিগন্ত সিনেমা হল। এবং ১৯৯৬ সালে নির্মিত হয় বিডিআর অডিটোরিয়াম, যা পরে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।


স্থানীয়দের মতে, ২০১০ সাল পর্যন্ত এই তিনটি হলেই ভালো ব্যবসা ছিল। প্রতি শুক্রবার নতুন সিনেমা মুক্তি পেত, মাইকিং হতো শহরজুড়ে, আর দর্শকদের ভিড় থাকত চোখে পড়ার মতো। ধারাবাহিকভাবে তিনটি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়দের জন্য রুপালী পর্দার সেই হাউসফুলের দিনগুলোও হারিয়ে যায়।
চলচিত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন মাঝে মধ্যে কক্সবাজারবাসীদের জন্য বড় পর্দায় সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করলেও তা সিনেমা প্রেমীদের জন্য যথেষ্ট নয় বলছেন স্থানীয়রা।

এদিকে কক্সবাজারে প্রেক্ষাগৃহ না থাকায় স্থানীয়রা যেমন বিনোদন বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি সমুদ্র সৈকতের পর পর্যটকদের জন্য সন্ধ্যার পর থাকে না তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা।

মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাব, গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক উপাদান দর্শককে বিমুখ করেছিলো বাংলা চলচিত্র থেকে।
 
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ, এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কক্সবাজারে আবারও সিনেমা হল সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সে জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, প্রযোজক ও হল মালিকদের একসঙ্গে এগিয়ে আসাটাও জরুরি বলে মনে করেন কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম। 

দীর্ঘ এক দশক পর আবারো রুপালী পর্দায় সিনেমা ফেরাতে আধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণের দাবি উঠেছে। এই দাবি পূরন হলে স্থানীদের জন্য যেমন বাড়বে বিনোদনের পরিসর তেমনি চলচ্চিত্র প্রসারে উন্মোচিত হবে নতুন দ্বার।