...|...|...

সারাদেশ

পর্যটকশূন্য সাজেক, পূজার ছুটিতে কোটি টাকার ব্যবসা হারানোর শঙ্কা

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২:৪০
Shares
পর্যটকশূন্য সাজেক, পূজার ছুটিতে কোটি টাকার ব্যবসা হারানোর শঙ্কা

সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। ছবি: টাইমস টুড

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনের নির্দেশনার এক দিন আগেই সোমবার (১২ অক্টোবর) দুই দফায় সাজেক ছেড়েছেন সেখানে অবস্থানরত ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সাজেকের কটেজ ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে সাজেকের বিভিন্ন কটেজ ও রিসোর্টে অবস্থানরত ৮৫৮ জন পর্যটক এলাকা ছেড়ে যান। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আরও ২৮৩ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন। দুই দফায় মোট ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক নিরাপত্তাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খাগড়াছড়িতে ফিরে যান।

সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন বলেন, প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের আগেই সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটক চলে গেছেন। নতুন করে কোনো পর্যটককে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক নেই।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটিতে সাজেকের কটেজ ও রিসোর্টগুলোর প্রায় সব কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া ছিল। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এখন এসব বুকিং নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে কটেজ ও রিসোর্ট মালিকদের পাশাপাশি পর্যটন খাতের সাথে যুক্ত স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

অবরোধের পর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

এর আগে সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। একই সাথে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। এতে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আলোচনার পর অবরোধকারীরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত রাখতে সম্মত হন। এরপর নিরাপত্তাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পূজার মৌসুম ঘিরে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি বছরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সময়গুলোর একটি। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। পর্যটকদের কেন্দ্র করে কটেজ ও রিসোর্টের পাশাপাশি পরিবহন, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাও সচল থাকে।

কিন্তু ছুটির ঠিক আগে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকলে শুধু আবাসন ব্যবসা নয়, সাজেকের পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।

সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন বলেন, “পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া প্রয়োজন। পূজার দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকলে কটেজ ও রিসোর্ট মালিকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ীও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। এতে পর্যটকদের আগমন আবারও শুরু হবে এবং দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

তবে পর্যটনকেন্দ্রটি কবে নাগাদ আবার খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।