...|...|...

খুলনা

নড়াইলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্লাসরুমে ছাত্রকে আটকে মারধরের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:২৪ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৫৯
Shares
নড়াইলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্লাসরুমে ছাত্রকে আটকে মারধরের অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলার আর.বি.এফ.এম ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুমিন হাওলাদারকে (১৩) ক্লাসরুমে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামসহ দুই সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেনের বিরুদ্ধে।

মারধরের পর ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে যশোরে সিটি স্ক্যান করানো হয়। বর্তমানে সে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও তার স্বজনরা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুমিনের বাবা মারা গেছেন এবং তার মা অন্যত্র বিয়ে করায় ছোটবেলা থেকেই সে দাদির কাছে থাকছে। ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনায় তার মাথায় ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই সে শারীরিকভাবে দুর্বল।

ভুক্তভোগী মুমিন হাওলাদার অভিযোগ করে জানায়, পাশের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। সে বিষয়টি দেখতে সেখানে গেলে শিক্ষকরা তাকে ধরে ক্লাসরুমে নিয়ে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেন তাকে মারধর করেন। এ সময় স্যারেরা দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করা, চুল ধরে টানা এবং বেত দিয়ে পেটায়।

মুমিন আরও জানায়,মারধরের পর তার মাথায় তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না, কিছুক্ষণ পরপর অচেতন হয়ে পড়ছিল এবং বমি করছিল। পরে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দ্রুত সিটি স্ক্যান করানোর জন্য যশোরে পাঠান। সিটি স্ক্যান শেষে তাকে আবার নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই সহকারী শিক্ষকরা। 

সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু বলেন, সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করছে, এমন অভিযোগ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মুমিনসহ ছয়-সাতজন শিক্ষার্থীকে দেখতে পান। পরে তাদের সরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের জানিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা হয় বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইসরাফিল হোসেনও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুমিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছিল। পরে তাদের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। অভিভাবকরা দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি।

এদিকে ঘটনার সময় মুমিনের সাথে থাকা সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দাবি করে, মারামারির পর শিক্ষকরা তাদের ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে সবাইকে মারধর করেন। তবে মুমিনকে তুলনামূলক কম মারা হয় বলে জানায় সে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমিন হাওলাদারকে দেখতে যান নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবির। তারা তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার বিষয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।