...|...|...

লাইফস্টাইল

নিয়মিত করলার রস খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত করলার রস খাওয়ার উপকারিতা

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ভোর রাত ৪:৩৩ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬, ভোর রাত ৫:১৮
Shares
নিয়মিত করলার রস খাওয়ার উপকারিতা


করলার রস এমন একটি পানীয় যা অনেকের কাছেই তেমন আকর্ষণীয় নয়।  তীব্র তেতো স্বাদের কারণে এটি এড়িয়ে চলেন অনেকে, তবে দীর্ঘদিন ধরেই করলার রস ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চার অংশ হিসেবে পরিচিত, বিশেষত বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা বেড়েছে।  যদিও এর ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দ্রুত পরিবর্তনের মতো নয়, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিললে এটি ধীরে ধীরে উপকার এনে দেয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত করলার রস পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে—

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

করলার রসের অন্যতম বড় গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা।  এতে থাকা চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি নামের উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।  ফলে শরীর শর্করা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে

করলার রস হজম এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা খাবার হজমকে সহজ করে।  এর তেতো স্বাদ পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সহায়তা করে।  ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে।  তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে সংবেদনশীলদের অস্বস্তি হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

কম ক্যালোরি ও ফাইবারসমৃদ্ধ করলার রস পেট ভরার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।  এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।  তবে একে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

করলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন পলিফেনল, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।  নিয়মিত করলার রস পান করলে কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ে।

হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষা করে

প্রতিদিন করলার রস পান করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হতে পারে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে।  তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।  এছাড়া করলার রস প্রদাহ কমাতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে সহায়তা করে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।