শুটারদের ওপর থেকে প্রতিযোগিতার চাপ কমাতে নানা ধরনের মজার ও চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য পরিচিত ভারতের ব্রিটিশ কোচ পিটার উইলসন। এবার এশিয়ান গেমসেও নিজের সেই কৌশল অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। তার কোনো শুটার পদক জিতলে বৃষ্টির মধ্যে নগ্ন হয়ে দৌড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই কোচ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজন হয়নি। তবে আনন্দের মুহূর্তে নিজের ছাতাই ভেঙে ফেলেছেন তিনি।
চলতি এশিয়ান গেমসে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারীদের ট্র্যাপ ইভেন্টে স্বর্ণ জেতেন ভারতের শুটার নীরু ধান্ধা। তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে ছাতা ভেঙে ফেলেন উইলসন। পরে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় নিজের আগের প্রতিশ্রুতি নিয়েও মজা করেন তিনি। উইলসন বলেন, ‘আমি মজা করে বলেছিলাম, এখানে আমরা পদক জিতলে বৃষ্টির মধ্যে নগ্ন হয়ে দৌড়াব। তবে হয়তো সেটা (করা) হবে না।’
পিটার উইলসনের এমন অভিনব কাণ্ড অবশ্য নতুন নয়। শুটারদের মানসিক চাপ কমাতে এর আগেও তিনি একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০২৫ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের জোরাভার সিং সান্ধু ব্রোঞ্জ পদক জেতার পর নিজের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। গ্রিসের এথেন্সে পাওয়া সেই পদকটি ছিল ২০ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শটগান ইভেন্টে ভারতের প্রথম পদক।
সেবারও শুটারদের ওপর থেকে চাপ সরাতেই চুল কামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উইলসন। সাইপ্রাসে দলের অনুশীলন ক্যাম্প চলাকালে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি কেউ পদক জেতে, আমি মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলব।’
উইলসনের কথা শুনে শুটাররা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন, তিনি সত্যিই মাথার সব চুল কামাবেন কি না। জবাবে কোচ বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, পুরোপুরি। একেবারে টাক।’
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জোরাভার পদক জেতার পর নিজের সেই কথা রেখেছিলেন উইলসন। পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দলের মধ্যে একটা চাপ অনুভব করছিলাম। দলটা তরুণ, তাই এত বড় আসরের চাপ থেকে ওদের মনটা অন্য দিকে সরাতে চেয়েছিলাম। মজা করে বলেছিলাম কথাটা।’
এরপর গ্রিসের শুটিং রেঞ্জে গিয়ে চুল কামানোর সুযোগ পাওয়ার ঘটনাকেও বেশ মজারভাবে তুলে ধরেন তিনি। উইলসন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে আমি শুটার কিংবা কোচ হিসেবে আছি। কিন্তু জীবনে প্রথমবার গ্রিসে শুটিং রেঞ্জে গিয়ে দেখি, সেখানে একজন ভ্রাম্যমাণ নাপিতও আছে। ওরা সবাই ভাবল, এটা ঈশ্বরের কাজ একটা ইশারা। হয়তো সত্যিই তাই ছিল। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য।’
উইলসন নিজেও একসময় অলিম্পিকে সোনাজয়ী শুটার ছিলেন। বর্তমানে ভারতের শটগান শুটিংয়ে নতুন গতি আনার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নীরু ধান্ধার এশিয়ান গেমসের সাফল্যকে নিজের সেই প্রচেষ্টার আরেকটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন এই কোচ।
ভারতের শটগান ইভেন্টের অবস্থান নিয়ে উইলসন বলেন, ‘২০১২ সালের পর থেকে রাইফেল ও পিস্তল ইভেন্টই বেশি আলোচনায় ছিল। শটগান কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। আমি এখানে এসেছি সেটাই বদলানোর চেষ্টা করতে।’


