দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। অথচ মৌলভীবাজারের অনেক চা-বাগানের শ্রমিক এখনো উৎসব বোনাস পাননি। যেসব বাগানে বোনাস দেওয়া হয়েছে, সেখানেও প্রাপ্য অর্থের তুলনায় কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চা-শ্রমিক সংঘ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন সংগঠনটির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। অথচ এখনো মালনীছড়া ও রাজনগরসহ অনেক বাগানের শ্রমিকদের বোনাস দেওয়া হয়নি। কয়েকটি বাগানে বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি।
সংগঠনটির অভিযোগ, কমলগঞ্জের শমশেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর ও তিলকপুরসহ বিভিন্ন বাগানে পূর্ণ উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কর্মস্থলে উপস্থিতির ভিত্তিতে হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চা-শ্রমিক সংঘের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ১৯৬ টাকা ৮০ পয়সা মজুরি ধরে ৫৫ দিনের মজুরি হয় ১০ হাজার ৮২৪ টাকা। এর ৬০ শতাংশ হিসাবে একজন শ্রমিকের উৎসব বোনাস পাওয়ার কথা ৬ হাজার ৪৯৪ টাকা ৪০ পয়সা। তবে বাস্তবে এর চেয়ে কম অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
বিবৃতিতে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, শমশেরনগরের শেফালী রেলীকে ৪ হাজার ৮৭০ টাকা, চাতলাপুরের সাবিত্রি নাউড়কে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং দেওছড়ার রামনারায়ণ গৌড়কে ৩ হাজার ২৪৭ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২(২ক) ধারা, শ্রমবিধিমালা ২০১৫-এর ১১১(৫) বিধি এবং ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা-শিল্পের নিম্নতম মজুরির গেজেট অনুযায়ী উৎসব বোনাস দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোথাও উপস্থিতির শর্তে বোনাস দেওয়ার কথা বলা হয়নি। এ ছাড়া ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের সমান মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন মানছে না অভিযোগ করে নেতারা বলেন, এর ফলে পূজার আগে শ্রমিকদের উৎসবের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।


