...|...|...

বিশ্ব

দীর্ঘদিনের সঙ্গী জিলিসের সাথে ইলন মাস্কের হঠাৎ বিচ্ছেদ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৪ | আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩২
Shares
দীর্ঘদিনের সঙ্গী জিলিসের সাথে ইলন মাস্কের হঠাৎ বিচ্ছেদ

ছবি: এআই জেনারেটেড।

কোনো অভিযোগ নেই, ক্ষোভও নেই। এক্সে দীর্ঘ পোস্টে ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার কথা লিখে বিচ্ছেদের খবর দিলেন চার সন্তানের মা। সাথে প্রকাশ করলেন শেষ দিনগুলোর কিছু বার্তা।

এক সপ্তাহ আগেও যে সম্পর্ক ছিল গভীর ভালোবাসায় ভরা, তা হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেছে। ধনকুবের ইলন মাস্কের সাথে বিচ্ছেদের খবর নিজেই জানিয়েছেন তার সঙ্গী ও চার সন্তানের মা শিভন জিলিস। তবে সেই ঘোষণায় কোনো অভিযোগ নেই। আছে শুধু কষ্ট, মমতা আর কৃতজ্ঞতার কথা।

চলতি সপ্তাহের শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ কথা জানান। পোস্টে জিলিস লেখেন, কোনো পূর্বাভাস ছাড়া মাত্র এক সপ্তাহে গভীর প্রেম থেকে বিচ্ছেদে পৌঁছানো সত্যিই কঠিন, তবু জীবনে মাঝে মাঝে এমনটাই ঘটে। পোস্টের সাথে তিনি জুড়ে দেন বিচ্ছেদের ঠিক আগে দুজনের মধ্যে হওয়া শেষ দিককার বার্তার একটি স্ক্রিনশট।

শুক্রাণু দাতা থেকে জীবনসঙ্গী

এই গল্পের শুরুটাও খুব চেনা ছকের নয়। জিলিসের সন্তানদের জন্য মাস্ক প্রথমে শুক্রাণু দাতা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখান থেকেই দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

বিচ্ছেদ আকস্মিক হলেও জিলিসের লেখায় তিক্ততা নেই। কষ্টের ভেতরেও সেখানে ফুটে উঠেছে শান্তভাবে মেনে নেওয়ার সুর। তিনি লিখেছেন, মন ভারী হলেও মাস্কের প্রতি তার মমতা অটুট এবং তিনি সবসময় মাস্কের সুখের জন্য প্রার্থনা করবেন। বিদায়ের কথায় যোগ করেছেন, বিশ্ব মাস্ককে পেয়ে ধন্য।

প্রযুক্তি আর রাজনীতির অঙ্গনে মাস্কের জীবন ব্যস্ত, প্রায়ই খবরের শিরোনামে, আর অনেক সময় বিতর্কে জড়ানো। জিলিসের ভাষ্য, এই ঝড়ের মাঝে তিনি ও তাদের সন্তানেরা ছিলেন মাস্কের মনের শান্তির ঠিকানা।

সন্তানদের নামও উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০২১ সালে জন্ম নেওয়া যমজ স্ট্রাইডার ও অ্যাজুর, ২০২৪ সালের কন্যা আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালের শুরুতে আসা কনিষ্ঠ পুত্র সেলডন।

জিলিস লিখেছেন, তারা ছিলেন মাস্কের নিরাপদ আশ্রয়। সেখানে মাস্ককে দেখলেই সবাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠত। বাইরের লড়াই-সংঘাতের জীবনের ঠিক উল্টো পিঠে এই ঘর ছিল আনন্দ আর ভালোবাসায় ভরা, যেখানে বিবাদের কোনো ছায়া পড়ত না।

অনেক কিছু হারানোর বেদনা তিনি লুকাননি। তবে সান্ত্বনার কথাও লিখেছেন, ভাগ্যিস তারা একসাথে জীবনের চারটি সুন্দর আলোর জন্ম দিতে পেরেছেন।

সাবেক সঙ্গীকে নিয়ে জিলিসের বর্ণনায় আছে কাব্যিক ছোঁয়া। তার চোখে মাস্ক এক অশান্ত মনের মানুষ, যার শৈশব কেটেছে ঝড়ের মতো। জিলিস জানান, তার চেষ্টা ছিল কোমলতা আর ভালোবাসার স্থায়িত্ব দিয়ে মাস্ককে গভীরভাবে বুঝতে চাওয়া, পরম যত্নে আগলে রাখা এবং শান্তির ভালোবাসা কেমন হতে পারে, তা তাকে অনুভব করানো।

স্ক্রিনশটে যা ধরা পড়েছে

জিলিসের প্রকাশ করা বার্তাগুলোতে তিক্ততার কোনো চিহ্ন নেই। সেখানে আছে এক সাধারণ সম্পর্কের সহজ উষ্ণতা। একটি বার্তায় জিলিস মাস্ককে লিখেছিলেন, প্রাতরাশে দেখা হয়ে তার খুব ভালো লেগেছে এবং তিনি মাস্ককে অনেক ভালোবাসেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাস্ক ছোট্ট জবাব দেন, তিনিও ভালোবাসেন।

একই কথোপকথনে উঠে আসে আরেকটি প্রসঙ্গ। মাস্ক জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সুবিধার্থে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত নৈশভোজে চাইলে জিলিসকেও আমন্ত্রণ জানানো যেত, যা তিনি আগে বুঝতে পারেননি। জিলিস উত্তরে লেখেন, কথাটি তার কাছে অনেক বড় কিছু। সাথে ধন্যবাদ আর একটি হার্ট ইমোজি।

তবে বার্তা আদান-প্রদান আর বিচ্ছেদের ঘোষণার মাঝামাঝি সময়ে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর, জিলিস বিস্তারিত কিছু না বলে একটি ছোট্ট পোস্ট করেছিলেন। তাতে লেখা ছিল শুধু, ‘নতুন দিন, নতুন জীবন।’ তখন এর অর্থ স্পষ্ট ছিল না। এখন বিচ্ছেদের খবরের পর পোস্টটি নতুন করে চোখে পড়ছে।