ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান xAI- এর বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে মার্কিন পডকাস্টার কেটি মিলারের। অথচ গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে xAI- এর প্রতিদ্বন্দ্বী চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি নেতিবাচক পোস্ট করেছেন তিনি। এ নিয়ে তার আর্থিক স্বার্থ ও অনলাইন প্রচারণা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পিপল জানিয়েছে, কেটি মিলার নিয়মিতভাবে চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং গুগলের জেমিনির সমালোচনা করেছেন। এসব এআই সেবাকে কখনো পক্ষপাতদুষ্ট, কখনো শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং কখনো নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সময়ে xAI ও এর চ্যাটবট গ্রোকের প্রশংসাও করেছেন।
কেটি মিলার হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী। তার প্রকাশ করা আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, xAI- এর ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার রয়েছে তার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি এসব শেয়ার কেনেন।
শেয়ার কেনার পরবর্তী সময়ে xAI- এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে তার পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ও ওপেনএআইকে নিয়ে তিনি ৪০০ বারের বেশি পোস্ট করেছেন। অ্যানথ্রপিকের ক্লড নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করেছেন ৬৪টি এবং গুগলের জেমিনি নিয়ে ৩৩টি। বিপরীতে xAI ও গ্রোককে নিয়ে করা ১৬১টি পোস্টের বেশিরভাগই ছিল ইতিবাচক।
সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির সমালোচনা করে একটি পোস্টে কেটি দাবি করেন, চ্যাটবটটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখিয়েছে। এ ধরনের এআই শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করা হলে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে xAI- তে নিজের বিনিয়োগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের কাছে প্রকাশ না করার বিষয়ে কেটির বক্তব্য, তার পোস্টের জন্য তিনি কোনো অর্থ পান না এবং নিজের আগ্রহ থেকেই এসব করেন। তার ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক হওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
এদিকে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের নির্দেশনায় কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের প্রচারে যুক্ত থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তার আর্থিক স্বার্থ থাকলে তা প্রকাশ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ কারণেই কেটির বিনিয়োগের তথ্য গোপন রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইলন মাস্কের সাথে কেটি মিলারের সম্পর্কও শুধু বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নয়। মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডিওজিইর সময় কেটি তার সাথে কাজ করেছিলেন। পরে বেসরকারি পর্যায়েও মাস্কের সাথে কাজ চালিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে xAI- এর পরামর্শক হিসেবেও যুক্ত হন কেটি।
ফলে xAI- তে তার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, প্রতিষ্ঠানটির সাথে পেশাগত সম্পর্ক এবং একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা- সব মিলিয়ে কেটি মিলারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।



