...|...|...

সারাদেশ

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:১১
Shares
দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল

অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল। ছবি: টাইমস টুডে

কুষ্টিয়া শহরের পানি নিষ্কাশন এবং আশপাশের কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গড়াই খালটি দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। এরইমধ্যে কোথাও কোথাও খালের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। একইসাথে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয় জলপথ সম্প্রসারণ ও মিরপুর উপজেলার একাংশের কৃষিজমির জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে খালটি খনন করা হয়। দীর্ঘদিন এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কুষ্টিয়া কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ছিল। পরে ২০১৮ সালে অনাপত্তিপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে খালটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় কুষ্টিয়া পৌরসভা।

খালটি পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে একই বছর একটি প্রকল্প হাতে নেয় পৌরসভা। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই তীরে হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে), বৃক্ষরোপণ এবং খালে মাছ ও হাঁস চাষের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিকল্পনার ঘাটতি, ঠিকাদারের গাফিলতি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রকল্পটি মাঝপথেই থেমে যায়। প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই খালটি কুষ্টিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবাড়িয়া বাজার, উদিবাড়ি, বাড়াদি, চৌড়হাসের মন্দিরপাড়া, চেচুয়া, ফুলবাড়িয়া, জগতি ও বাইপাস হয়ে মিনাপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

সরেজমিনে খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, দুই তীরে জমে আছে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও কোথাও পানির রং কালচে হয়ে গেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা ও পলি জমে অনেক স্থানে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম জানান, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি দিন দিন সংকুচিত ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পারায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

আরেক বাসিন্দা বসু দেব জানান, খালের জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দেয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

কুষ্টিয়ার পরিবেশবিদ কবিরুল ইসলাম বলেন, গড়াই খালকে দখল ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও সংকটের মধ্যে পড়বে। একইসাথে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে গড়াই খালটির গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমানে খালটির তদারকির দায়িত্ব কুষ্টিয়া পৌরসভার ওপর ন্যস্ত এবং পৌর কর্তৃপক্ষই এর দেখভাল করছে। খালটির বিষয়ে পৌরসভার কারিগরি পরামর্শের প্রয়োজন হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়েও পৌরসভাকে সহযোগিতা করা হবে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান জানান, গড়াই খাল নিয়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা দেখতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। পরে বিষয়টি আর এগোয়নি। তবে খালটি কীভাবে পুনরায় সচল করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।