তৃতীয় বিয়ে করার পর বলিউড অভিনেতা আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ চর্চার অভিযোগ আনল বজরং দল। অভিনেতার বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভেও নামে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নিউজ এইট্টিন জানিয়েছে, বিহারের ফোর্বসগঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি বজরং দলের সদস্যেরা আমির খানের তৃতীয় বিয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। সে সময় তারা ‘আমির খান মুর্দাবাদ’, ‘আমির খান ভারত ছাড়ো’ স্লোগান দেয়।
তারা ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতার কুশপুতুলও পুড়িয়েছেন।
বজরং দলের নেতা মনোজ সোনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমির খান বার বার হিন্দু পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করছেন। এর মাধ্যমে তিনি হিন্দু সমাজকে অপমান করছেন।’
মনোজ সোনি আরও বলেন, ‘আমির নাকি বিয়ে করে হিন্দু সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি যদি খুব তাড়াতাড়ি এ সব কাজ বন্ধ না করেন, তা হলে তাকে শিক্ষা দেওয়া হবে।’
একটি ভিডিওতে বলিউডের অভিনেতাদের উদ্দেশ্য করে মনোজ সোনিকে বলতে শোনা যায়, হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে সন্তানদের নাম রাখেন তৈমুর, আফরোজ, সালমন। এটা কেমন নিয়ম? মুসলিম সমাজের মেয়ে বা বউদের প্রতি তাদের ভালোবাসা হয় না কেন? শুধু হিন্দু মেয়েদেরই কেন ভালোবাসেন?’
তিনি আদালত ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমির খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে। তার অভিযোগ, অভিনেতা দেশের ‘সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন’।
গৌরীর সাথে ৬১ বছর বয়সি আমিরের প্রেমের খবর সামনে আসে গেল বছর তার জন্মদিনে। আর এবার জুন মাসের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ে গৌরীকে বিয়ে করছেন তিনি।
এর পর মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনে জুলাইয়ের ৫ তারিখে, আগের সংসারের ছেলেমেয়ে, স্বজন এবং ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ট কয়েকজনের উপস্থিতিতে আমির ও গৌরী বিয়ে করেন।
আর এর মাধ্যমে তিনবারে সংসার জীবনে প্রবেশ করলেন আমির।
আমিরের প্রথম বিয়ে ১৯৮৬ সালে। তার ছেলেবেলার বন্ধু রীনা দত্তের সাথে ঘর বাঁধেন তিনি। এই সংসারে আমিরের দুই ছেলেমেয়ে জুনাইদ খান ও ইরা খান।
১৬ বছর সংসারের পর ২০০২ সালে রীনার সাথে আমিরের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তার ওই সংসার টিকেছিল ১৬ বছর। ২০২১ সালে কিরণের সাথে তার বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদ হলেও তাদের ছেলে আজাদ খানের দেখভাল করছেন আমির ও কিরণ দুজন মিলেই।


