...|...|...

জাতীয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:১১ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৩৫
Shares
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান

সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে সব পক্ষের মতামত নিয়ে এগোতে চায় কমিটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পদ্ধতি, গঠনপ্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা দরকার। সে জন্য সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে লিখিত প্রস্তাব ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো থেকে দেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগীটি বেছে নিয়ে সংসদে পর্যালোচনা করা হবে এবং তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে।

তিনি জানান, কোন ধাপে কীভাবে এই সরকারের কাঠামো দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু সুস্পষ্ট প্রস্তাব যেমন আছে, তেমনি একাধিক জায়গায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতও আছে। তাই প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ, যেকোনো ধাপে কাঠামো ঠিক করার বিকল্প এখনো খোলা রাখা হয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মত একটি কাঠামোয় পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা মত দেন। এতে ছিলেন ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও বার্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এর আগে রোববার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আলোচনার সুযোগ রাখতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় দুই দফায় করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু পরামর্শ পাওয়া গেছে, আর যারা এখনো দেননি, তাদের দ্রুত লিখিত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পর্যায়ক্রমে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কমিটি কথা বলবে। তালিকায় আছেন বিশিষ্টজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনা-নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সরাসরি মত নেওয়া হবে। সবার শেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রসঙ্গও ওঠে। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে এমন ব্যবস্থা যুক্তিসংগত কি না, তা নিয়ে মতভেদ আছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তাকে গুরুত্ব দিয়ে কমিটি ওই পথেই এগোতে চায়। মন্ত্রী বলেন, আইনসভা বা সরকারি দল থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো যথাযথ সংশোধনী প্রস্তাব এলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশোধন প্রক্রিয়া থেকে কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না। বিরোধী দলসহ সবাইকে আলোচনায় যোগ দিতে তিনি আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সবাই সক্রিয়ভাবে সংলাপে অংশ নিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংশোধন আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হবে, আর সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিএনপির উত্থাপিত একটি নীতিগত প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রস্তাবটি হলো, কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ঠেকানোর ক্ষেত্রে দলটির অবস্থান দৃঢ়। তবে অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বিকল্প প্রস্তাবও সংসদে আলোচনার জন্য খোলা থাকবে।