...|...|...

জাতীয়

ঢাকার আরও দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে দ্বিগুণ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১১ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:৫২
Shares
ঢাকার আরও দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে দ্বিগুণ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় আরও দুই রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে দ্বিগুণের বেশি। শুরুতে দুটি প্রকল্পের জন্য ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।

ব্যয় বাড়ানোর এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্প দুটির বাড়তি ব্যয় যৌক্তিক কি না, তা যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রকল্প দুটির একটি হলো এমআরটি লাইন-১। এই প্রকল্পের আওতায় কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতাল মেট্রোরেল এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। অন্যটি এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর), যেখানে সাভার থেকে গাবতলী, মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

২০১৯ সালে নেওয়া এসব প্রকল্পের মধ্যে এমআরটি লাইন-১ এর প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা।

ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি যাচাই করতে চলতি বছরের মে মাসে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাড়তি ব্যয়কে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি, ডলারের দাম বৃদ্ধি, নকশায় পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, কর-ভ্যাট এবং অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, প্রকল্প ব্যয় কমাতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় আরও বেশি প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না হলে মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মেট্রোরেল প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।