সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সিস্টেমে বৃহস্পতিবার একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সেখানে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি সম্পদ এবং তা রপ্তানির সক্ষমতাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, পাইপলাইনটি হামলার শিকার হয়েছে এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনটি সুরক্ষিত করতে ও এর নিরাপত্তা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট টিমগুলো কাজ করছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
হামলার ধরন ও প্রাথমিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার মতে, প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে পাইপলাইনের ঠিক পাশেই অবস্থিত পাম্প স্টেশনগুলো এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। শুক্রবার ধারণ করা একটি উপগ্রহ চিত্রে একটি পাম্প স্টেশনে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট দেখা গেছে এবং বৃহস্পতিবারের অন্য একটি ছবির একটি পাম্প স্টেশনে ছোট আগুনের কুণ্ডলী থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন দিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে বা পাইপলাইনের মূল অংশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকি ভূখণ্ড থেকে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন এই হামলা চালায়, যার ফলে কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে তা মেরামতের কাজ চলছে।
সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশ ও সৌদির বিরুদ্ধে নিজ ভূমি ব্যবহার করে এ ধরনের আক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে রাজ্য এই মুহূর্তে কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, ইরাক সরকার এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে যে, এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে একটি জরুরি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ-এর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকি সরকার ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং সৌদির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করে বা দুই দেশের গভীর ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে আঘাত হানে এমন যেকোনো হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছে।


