চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চার হাজার ৫২৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে নগর ভবনে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট ছিল ছয় হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মোট বাজেট ধরা হয়েছে চার হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; যা গত বছরের তুলনায় এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম।
বাজের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বাজেটের আয়-ব্যয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, নতুন অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট চার হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি জমা ৬৬০ কোটি টাকা, রাজস্ব আয় দুই হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ৯৬৫ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, ব্যয়ের মধ্যে আছে- রাজস্ব ব্যয় এক হাজার ৭৭ কোটি টাকা, নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় এক হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় উন্নয়ন ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে উন্নয়ন ব্যয় ৯৬৫ কোটি টাকা, অন্যান্য ব্যয় সাত কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ৪২৭ কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় দুই হাজার ৫৩১ কোটি টাকা ও নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বলেও তথ্য দেন প্রশাসক।
তিনি বলেন, ঢাকা ক্ষুদ্র আয়তনের বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত নগরী, যেখানে কোনো বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। সুপরিকল্পিতভাবে ও পর্যাপ্ত রাস্তা বা ড্রেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। খাল ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বাসাবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বিশাল জনসংখ্যার এই নগরীতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা সমস্যা সমাধানে নগরবাসীর সহযোগিতা চান প্রশাসক। তিনি বলেন, দীর্ঘ বছরের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রাতারাতি অপসারণ সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি এবং নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সফল হব ইনশাআল্লাহ।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন ডিএনসিসির বাজেটে ঘাটতি ছিল। বাজেট স্বল্পতার কারণে নগরবাসীর বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তবে বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় বাজেট স্বল্পতা কাটিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, এডিস মশা নিধন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ সেবামূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নের রূপরেখা সম্পর্কে তিনি বলেন, অপরিষ্কার ও ময়লা-আবর্জনার মধ্যে কখনো বৃক্ষরোপণ সম্ভব নয়। তাই আগে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা অভিযানের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে। এরপর বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন বাজেটের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার খাত প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, এবারের বাজেটে ডেঙ্গু (এডিস) মশা নিয়ন্ত্রণসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সংস্কার করে যাত্রী কল্যাণমুখী করা, বিভিন্ন খাল দখলমুক্ত করা এবং হকার ও বস্তিবাসীর উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

