...|...|...

ক্যাম্পাস

ডাকসুর কার্যবিবরণী প্রকাশ, ছারপোকা দমনে খরচ ৩২ লাখ টাকা

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৩৬ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৩৪
Shares
ডাকসুর কার্যবিবরণী প্রকাশ, ছারপোকা দমনে খরচ ৩২ লাখ টাকা

এক বছরের মেয়াদ শেষে নিজেদের কার্যক্রম ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে জবাবদিহি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এতে ১৮টি হলের ছারপোকা দমন ও পরিচ্ছন্নতা কাজেই ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। একই সাথে এক বছরে আবাসন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা খরচের খতিয়ান তুলে ধরলেও পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ না করায় সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বছরব্যাপী এই কার্যক্রম ও খতিয়ান প্রকাশ করেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। এ সময় ‘খতিয়ান’ নামে একটি বিশেষ স্মরণিকাও উন্মোচন করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে হলের ছারপোকা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা খাতে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়টি নজর কেড়েছে সবার। এ প্রসঙ্গে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ স্পষ্টীকরণ করে বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি ফার্মের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কেউ ৪৫-৫০ লাখ টাকা চেয়েছিল, আবার অনেকে ৩২ লাখের কমও বলেছিল। তবে ভালো রিভিউর ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ফার্মকে বেছে নেওয়া হয়। হলের প্রতিটি রুমে গিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়েছে বলেই এই পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রেজেন্টেশনে পুরো কার্যক্রমের বিস্তারিত অডিট হিসাব না থাকলেও প্রধান প্রধান কয়েকটি ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে- শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে ৩ কোটি টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, নারী শিক্ষার্থীদের আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণে ৬৫ লাখ টাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ব্যয় ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

অবশ্য অন্য একাধিক খাতে ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অঙ্কের হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি ডাকসু। ভিপি সাদিক কায়েম জানান, অডিটের কাজ চলমান রয়েছে এবং শীঘ্রই খরচের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে। সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবির বিষয়ে ভিপি বলেন, ডাকসু প্রকৃতপক্ষে যে কাজ করেছে তার মূল্য ৩৫ কোটি টাকার চেয়েও বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার তীব্র অভিযোগ তোলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ‘ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রদান করেনি। পুরো সময়জুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তবে শত প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও আমরা আবাসন, পরিবহন, খাবারের মান ও গবেষণার মতো জায়গায় হাজারের বেশি কাজ সম্পন্ন করেছি।’

তিনি আরও জানান, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু না হওয়ায় ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘DU Teachers’ Evaluation’ নামের ওয়েবসাইট চালু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ডাকসুর উল্লেখযোগ্য সফল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স, গবেষণা কর্মশালা, প্রপোজাল তৈরির প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ সেশন, এডুকেশন এক্সপো, শনিবারে বিশেষ বাস সার্ভিস, সন্ধ্যার বাড়তি ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য আলাদা বাস এবং সাপ্তাহিক ‘ঢাকা-কুমিল্লা’ রুটে বাস চালু।

ডাকসুর প্রকাশিত ‘খতিয়ান’ বইয়ে শুধু সাফল্য নয়, প্রশাসনের বাধার কারণে আটকে যাওয়া প্রকল্পগুলোর তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার ল্যাব, ইনোভেশন হাব, চাকরি মেলা, মাঠ সংস্কার, ডিজিটাল সেবা, হলে ভর্তুকিমূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিন, নতুন যানবাহন ক্রয়, মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম।

প্রশাসনিক জটিলতা ও সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডাকসু নেতৃত্ব।