...|...|...

খেলা

টি-টেন লিগে এনওসি পাচ্ছেন না চার বাংলাদেশি, বিসিবির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ফ্র্যাঞ্চাইজি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৭ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৪
Shares
টি-টেন লিগে এনওসি পাচ্ছেন না চার বাংলাদেশি, বিসিবির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ফ্র্যাঞ্চাইজি

ছবি: সংগৃহীত

আবুধাবি টি-টেন লিগের আগামী মৌসুমে খেলার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হচ্ছে না চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারের। শেখ মেহেদী হাসান, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও হাবিবুর রহমান সোহানকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টুর্নামেন্টের দল ইউনাইটেড টাইগার্সের মালিক জাফির ইয়াসিন চৌধুরী। তার দাবি, আন্তর্জাতিক দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতাশাজনক।

আগামী ৭ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আবুধাবি টি-টেন লিগের পরবর্তী আসর। এই প্রতিযোগিতায় ইউনাইটেড টাইগার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল চার বাংলাদেশির। তাদের এনওসি না দেওয়ার বিষয়ে এক বিবৃতিতে ইয়াসিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমের আবুধাবি টি-টেন লিগের জন্য ইউনাইটেড টাইগার্সের নির্বাচিত চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেওয়ার ঘটনায় আমি গভীর হতাশা প্রকাশ করছি।’

বিবৃতিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন ইউনাইটেড টাইগার্সের মালিক। তিনি জানান, গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি কানাডা, লঙ্কা টি-টেন সুপার লিগ ও জিমআফ্রো টি-টেন লিগের মতো প্রতিযোগিতায় তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে ভূমিকা রেখেছে।

ইয়াসিন বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি কানাডা, লঙ্কা টি-টেন সুপার লিগ এবং জিমআফ্রো টি-টেন লিগসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায়, চলতি মৌসুমের আবুধাবি টি-টেন লিগের জন্য ইউনাইটেড টাইগার্স চারজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে নির্বাচন করে। এবারের প্রতিযোগিতায় আমরাই একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে। ফখর জামানের অধিনায়কত্বে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, এই টুর্নামেন্ট তাদের অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে।’

বিসিবির সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন খবর জানা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিশেষ করে, আমাদের জানা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে তাদের কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব নেই। বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে তাদের সম্পৃক্ততাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, এমন বিষয়ে তার নেতৃত্ব থেকে আমরা আরও স্পষ্টতা ও সমন্বয় আশা করেছিলাম।’

ইয়াসিনের মতে, এই সিদ্ধান্তে শুধু চার ক্রিকেটারের খেলার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনা ও আর্থিক বিনিয়োগও। তার ভাষ্য, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের জন্য কয়েক মাস ধরে খেলোয়াড় নির্বাচন, দল সাজানো, কৌশলগত প্রস্তুতি ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। তাই কোনো দেশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ থাকলে ড্রাফট বা নিবন্ধনের আগেই তা জানানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগ কেবল চারজন খেলোয়াড়কে হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাথে কয়েক মাসের পরিকল্পনা, খেলোয়াড় সংগ্রহ, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ জড়িত থাকে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ থাকলে, আমাদের বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের নিবন্ধন এবং ড্রাফটে অংশ নেওয়ার আগেই তা জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।’

দল গঠনের পর এবং টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১৫ দিন আগে সিদ্ধান্তটি জানানোয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনুষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ইউনাইটেড টাইগার্সের মালিক। তার দাবি, বিপিএল না হওয়ায় দেশের ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলা এবং আন্তর্জাতিক তারকাদের সাথে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

ইয়াসিন বলেন, ‘চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনুষ্ঠিত না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিপিএল না হওয়ায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া উভয় পর্যায়ের বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খেলোয়াড়রা শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, বরং মূল্যবান প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জন, আন্তর্জাতিক তারকাদের সাথে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি এবং উচ্চমানের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।’

তার মতে, আবুধাবি টি-টেন লিগে অংশ নিতে পারলে চার ক্রিকেটারের জন্য সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হতো। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেড টাইগার্সের হয়ে আবুধাবি টি-টেন লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে এই খেলোয়াড়দের কয়েকজনের জন্য সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হতো। এমন এক সময়ে, যখন তাদের সামনে সুযোগ ইতোমধ্যেই সীমিত হয়ে এসেছে, তখন এই টুর্নামেন্ট তাদের একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মঞ্চ, মূল্যবান ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠিত বিদেশি খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিত।’

নির্বাচিত ক্রিকেটারদের সাথেও ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন ইয়াসিন। তার দাবি, ক্রিকেটাররা এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেড টাইগার্সের নির্বাচিত কয়েকজন খেলোয়াড়ের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবেও কথা বলেছি। তারা এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব না থাকায়, আগে থেকেই নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন ইউনাইটেড টাইগার্সের মালিক। তার মতে, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পেছনে বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে ইয়াসিন বলেন, ‘আমরা সব সময় গর্বের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। বাংলাদেশে অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটের প্রতি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। এমন এক সময়ে, যখন আমাদের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আরও বেশি সুযোগ ও পথ তৈরি করা প্রয়োজন, তখন আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের নেতৃত্বের উচিত তাদের ঘিরে আস্থা, স্থিতিশীলতা ও সুযোগ তৈরি করা, অনিশ্চয়তা নয়।’

আগামী ৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ২০ নভেম্বর শেষ হবে আবুধাবি টি-টেন লিগের নতুন মৌসুম। এনওসি না পাওয়ায় ইউনাইটেড টাইগার্সের হয়ে চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।