টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। একই সাথে আসামিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে।
টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকতে পুকুরপাড়ে যায়। এ সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে দাদা দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলেন, শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছেন। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবেন বলে হুমকি দেন দণ্ডিত আসামি। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তার মায়ের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। পরে আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভিকটিমের কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে তাকে নিশ্চিত করা হয়। পরে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী একেএম শামীমুল আক্তার।


