...|...|...

বরিশাল

জেলেদের সাথে দুপুরের খাবার খেলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ৮:৪৭ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:২৭
Shares
জেলেদের সাথে দুপুরের খাবার খেলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

জেলেদের সাথে দুপুরের খাবার খেলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মহিপুরে মাছ ধরার ট্রলারে উঠে জেলেদের সাথে সময় কাটিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় জেলেদের সাথে একই ট্রলারে দুপুরের খাবার খান তিনি। পাশাপাশি তাদের জীবন-জীবিকা, সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি, নৌপথের সমস্যা এবং মাছ ধরতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয় সরাসরি শোনেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) মহিপুরে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং জেলেদের সাথে মতবিনিময় শেষে খাপড়াভাঙা নদী ও মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত ট্রলার পরিদর্শনের সময় এ ঘটনা ঘটে।

মতবিনিময় সভায় সমুদ্রে ট্রলিং ট্রলারের কার্যক্রম নিয়ে জেলেদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সমুদ্রে এমন কোনো কার্যক্রম থাকা উচিত নয়, যার কারণে জেলেদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে কিংবা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন রয়েছে। সে সময় জনগণের কাছে গিয়ে তাঁদের সমর্থন চাইতে হবে। তাই জেলেদের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তার প্রভাব রাজনৈতিকভাবেও পড়তে পারে। সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলেদের দীর্ঘদিনের নাব্যসংকটের কথাও শোনেন প্রতিমন্ত্রী। মহিপুরের গুরুত্বপূর্ণ খাপড়াভাঙা নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একইসাথে সমুদ্রে খারাপ আবহাওয়ার সময় জেলেদের নিরাপত্তা বাড়াতে একটি বাতিঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলেদের জীবন ও নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দেওয়া হবে।

এর আগে নৌযান শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহিপুরে বিভিন্ন ধরনের নৌযানের তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌপরিবহন অধিদফতরের ‘নৌযানের ডাটাবেজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে নৌযান শুমারি-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের নৌযানগুলোর হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরিই এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নৌযানের সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি হলে নৌযান ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নৌপথের পরিকল্পনা, নিরাপত্তা এবং নৌখাতের উন্নয়নেও তা কাজে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দরের সদস্য কমোডর তারেক, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিক এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙা নদী ঘুরে দেখেন। নদীর বর্তমান নাব্য, মাছ ধরার ট্রলার চলাচল এবং মহিপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।