পটুয়াখালীতে হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আগের দিনের তুলনায় একদিনেই রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চিকিৎসার চাপ। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ হাজার ২৯০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ১৮৬ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১০৪ জনের মধ্যে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৩৮ জন, মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন, দশমিনায় ৬ জন, কলাপাড়ায় ২২ জন, গলাচিপায় ১৬ জন, বাউফলে ৩ জন এবং দুমকিতে ৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ জন ভর্তি হয়েছেন পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। এছাড়া মির্জাগঞ্জে ৬ জন, দশমিনায় ২ জন, কলাপাড়ায় ৪ জন, গলাচিপায় ৯ জন এবং বাউফলে একজন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসাসেবা নিতে অনেককে হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ডের বাইরেও অবস্থান করতে হচ্ছে। হাসপাতালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় কোথাও কোথাও অন্ধকার পরিবেশে রোগী ও স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও চোখে পড়েছে। সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের একই জায়গায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বাড়তি ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় হাসপাতালের বিদ্যমান জায়গা ও জনবল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের কয়েকজন ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন।
লাউকাঠি এলাকা থেকে হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডেও চাপ বেড়েছে। দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
আমতলী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগী মোনায়েম বলেন, ‘গত ৯ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় আছি। শরীর খুবই দুর্বল, অনেক কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থাও খুব খারাপ ও অপরিষ্কার। রোগীদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।’
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, ‘রোগীরা হাসপাতালে এলে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে গেলে সীমিত লোকবল দিয়ে সেবা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় যে হারে রোগী আসছেন, তা অব্যাহত থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।’
তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার প্রজনন বাড়তে পারে। এর ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।


