...|...|...

সারাদেশ

পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৬
Shares
পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজী। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ ও সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটনের সই করা চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার হুমকিসংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দলের শৃঙ্খলা ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে দলীয় পদ ও সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল অভিযোগ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ গাজী মুঠোফোনে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানোর পর ফরিদ গাজী তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় আবাসন ব্যবসার সাথে জড়িত। হুমকির পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

এদিকে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ বলে সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি।’

পরে ফরিদ গাজী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে এলাকায় আসার সময় সম্পর্কে জানতে চান। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’

জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, তিনি এলাকায় এলে এমনিতেই মানুষ জানতে পারবে। ফোনালাপের আরেক পর্যায়ে ফরিদ গাজী তার বক্তব্য রেকর্ড করে রাখার কথা বলেন। তখন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল জবাব দেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’

প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই ফোনালাপের রেকর্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হুমকির অভিযোগের ঘটনায় নয়, পৃথক একটি মামলায় ফরিদ উদ্দিন গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই মামলাটি চেক জালিয়াতি বা চেক প্রতারণার মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের করা সাধারণ ডায়েরির অভিযোগও তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদ উদ্দিন গাজী বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এর আগে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ জানিয়েছিলেন, মূল আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় ফরিদ গাজীর নাম ছিল না। পরে তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শুক্রবার জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তের পর এখন দলীয় পদ ও সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হলো তাকে।