পবিত্র রমজান মাস প্রতিবছরই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে। ইসলামি চান্দ্রবর্ষ সৌরবর্ষের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতিবছরই রমজান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা আগে শুরু হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের রমজানের নতুন চাঁদ ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় দেখা যেতে পারে। চাঁদ দেখা গেলে ওই রাতেই প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা শুরু হতে পারে।
তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাসকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবে দেখা হয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, রমজানের শুরু ও শেষ চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা শেষ করো।’- সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
ইসলামি ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।’ -সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫
এই মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। একই সঙ্গে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।
রমজানে রোজার বিধান সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে- ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ -সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৩
২০২৭ সালের রমজান ২৯ অথবা ৩০ দিনে শেষ হতে পারে। শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর নির্ভর করবে ঈদুল ফিতরের তারিখ। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর ১০ মার্চ, বুধবার হতে পারে। তবে এটিও চূড়ান্ত নয়ক। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে তারিখ এক দিন এদিক-সেদিক হতে পারে।



