পটুয়াখালী শহরে ছোট ভাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলায় খন্দকার নাহিদ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত নাহিদ পটুয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাহিদের ওপর দুই দিন ধরে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। প্রথম দিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় কলাতলা মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় মাহিনের নেতৃত্বে ৮-১০ জন নাহিদ ও তার ছোট ভাই ফাহিমকে মারধর করে। স্থানীয়রা বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
পরদিন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে নির্মাণাধীন ভবনের নিচে নাহিদের পথরোধ করে মাহিনের নেতৃত্বে একদল যুবক ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে নাহিদ মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে যান ।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় নাহিদকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জড়িত ছিলেন মাহিন, নাহিদ, ছোটন ওরফে তুষার এবং সাইফুল ইসলাম হিরা। এছাড়া স্বাধীন, এম আই নাহিদ, অমি, নাজমু, দিগন্ত, শাওন ও ইমনসহ আরও কয়েকজন হামলায় জড়িত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই ফাহিম খন্দকার বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি মেটাতে গিয়েই ওকে এভাবে মারধর করা হয়। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’

