রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও নগরীর বায়ুমান নিয়ে অস্বস্তিকর চিত্র পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঢাকার বায়ুর মান নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক একটি পরিমাপে বায়ুমান সূচক (একিউআই) ১৪১ রেকর্ড করা হয়েছে, যা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম আইকিউএয়ারে ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে দেখা গেছে। অন্যদিকে, AQICN-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টায় ঢাকার একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে বায়ুমান সূচক ছিল ১৪১।
বায়ুমান সূচক বা একিউআই বাতাসে দূষণের মাত্রা এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্দেশ করে। সূচকের মান ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ও পরিমাপের সময়ের পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বায়ুমানের তথ্য ভিন্ন হতে পারে। তাই ৯ অক্টোবরের নির্দিষ্ট সময়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া ওই দিনের সঠিক একিউআই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বায়ুদূষণের কারণে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখে জ্বালাপোড়াসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হাঁপানি ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দূষিত বাতাসের কারণে তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বায়ুমানের অবনতি হলে বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থান ও ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি।
ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা ও শিল্পকারখানার নির্গমন। এসব উৎস থেকে দূষণ কমাতে নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং শিল্পকারখানায় পরিবেশগত বিধিনিষেধ কার্যকর করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এতে নগরবাসী বায়ুদূষণের মাত্রা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।


