...|...|...

রাজনীতি

চাঁদাবাজির পর এবার গরিব শিশুদের টিকাও লুট করেছে বিএনপি: আসিফ মাহমুদ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:১২ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:১৫
Shares
চাঁদাবাজির পর এবার গরিব শিশুদের টিকাও লুট করেছে বিএনপি: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

ধনী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পর এবার বিএনপি গরিব শিশুদের টিকাও লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি ধনীদের থেকে চাঁদাবাজি করে, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করে। ইসিবিতে আমরা দেখলাম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আর এখানে গরিব বাচ্চাদের টিকাটাও ছাড়েনি।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট একটি সংগঠিত অপরাধ, যার সাথে বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি মাতৃসদন, শিশুদের টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকেই এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমনিতেই দুর্বল। এর মধ্যে এ ধরনের দাতব্য প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেয়, তাই এমন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এনসিপির মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিএনপির এক সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপির নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, ওই সাবেক এমপির স্বামী একসময় এলাকার কমিশনার এবং ভাই ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তাদের অতীত রাজনৈতিক সংগ্রামকে সম্মান জানাই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম তার নেতৃত্বে এখানে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও মবতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা ওষুধ, ইনজেকশন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এমনকি শিশুদের টিকাও লুট করে নিয়ে গেছে। গরিব মানুষের, গরিব বাচ্চাদের টিকা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান? আপনাদের এ কাজকর্ম দেখে আমাদের লজ্জা হয়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে এক্সকাভেটর ট্রাকে করে আনা হয়েছে। ঢাকা শহরে কোনো ভবন ভাঙতে পুলিশের ও সিটি করপোরেশনের অনুমতি প্রয়োজন হলেও পুলিশ সেখানে উপস্থিত থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ভাঙচুর শুরু হওয়ার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর আমরা দেখলাম প্রবেশপথে ও ভেতরে পুলিশ রয়েছে। যেন বাংলা চলচ্চিত্রের মতো সবকিছু শেষ হওয়ার পর পুলিশ পরিদর্শনে এসেছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ইসিবি ও রাড্ডা উভয় ঘটনার জন্য একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। হামলা, লুটপাট ও দায়িত্বে অবহেলার সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, িএগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিএনপির এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও স্থানীয় পুলিশ সবার ঐক্যবদ্ধ একটি সংগঠিত অপরাধ এটি। দ্রুত বিচার না হলে আমরা মনে করব রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এর দায় এড়াতে পারবে না।

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জমির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা হতে পারে। আমরা শুনেছি সমমনা সমবায় সমিতির প্রধান ওই এখানকার সংরক্ষিত নারী এমপির নেতৃত্বেই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি সরকারের কাছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ও ইসিবির ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। একই সাথে ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পাশের গলিতে দেখেছি অভিভাবকেরা শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন, আর স্বাস্থ্যকর্মীরা গরমের মধ্যে বসে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি অলাভজনক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের যদি এমন পরিণতি হয়, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক।

পরিদর্শনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহিদ আলমসহ অন্যান্য নেতাকর্মী অংশ নেন।