...|...|...

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ৪০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:২৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:২৫
Shares
চট্টগ্রামের ৪০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের দাফতরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক ঘাটতিও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থেকে একইসাথে দুই দায়িত্ব পালন করছেন। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদেরও।

অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শিগগিরই এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা দরকার বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ২৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৩২৬ জন। ফলে ৯৪৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

এদিকে সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে ঘাটতি। ১৪ হাজার ২৮৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৩ হাজার ২০১ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ১ হাজার ৮৬টি পদ। এতে অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

জেলাজুড়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষকসংকট রয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। উপজেলার ২২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ৫২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না হওয়া এবং নিয়োগসংক্রান্ত মামলা চলমান থাকায় শূন্য পদগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে ভবনসংকট থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক সংকটের সমাধান না হলে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। কারণ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষা অফিসের সাথে সমন্বয়, প্রতিবেদন পাঠানো, আর্থিক হিসাব ও শিক্ষক উপস্থিতি তদারকিসহ বিভিন্ন দাফতরিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকলে তাঁর নির্ধারিত ক্লাসের চাপ অন্য শিক্ষকদের ওপর পড়ে। শিক্ষকস্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত এই দায়িত্বের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম ও নিয়মিত পাঠদানের সময়সূচিও ব্যাহত হচ্ছে।

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ওয়ার্ডবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলক দাশ জানান, প্রায় দুই বছর এ বিদ্যালয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক থাকলে অবশ্যই শিক্ষার গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া এ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।

লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি প্রান্তিক এলাকায়। নিয়ম অনুসারে আমাদের শিক্ষক থাকার কথা ছয়জন। কিন্তু আমাদের স্কুলে শিক্ষক আছে তিনজন। এতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান খুব কষ্টকর। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক হামিদুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দিু। সেক্ষেত্রে পদটি শূন্য থাকলে কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে এবং নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। সুন্দর পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকের বিকল্প নেই। অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে খুব শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রামের পিটিআইয়ের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর সেই জটিলতা কেটে গেছে।

এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ফলে সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদে নতুন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান।